নির্জনতা কখনও কখনও প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনে তার নিজস্ব ছন্দে। কোলাহল থামলে সমুদ্রও যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এমনই এক শান্ত সময়ের সুযোগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি আবারও দেখা মিলছে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিনের। পর্যটকশূন্য বেলাভূমি এখন যেন এই সামুদ্রিক প্রাণীদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন মাহে রমদানকে ঘিরে সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি কমে গেছে। দীর্ঘ প্রায় ১২০ কিলোমিটার জুড়ে বেলাভূমির বিভিন্ন পয়েন্টে বিরাজ করছে নীরবতা। এই শান্ত পরিবেশেই গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ভিড়ছে ডলফিনের দল। গত কয়েকদিন ধরে সকাল ও বিকেলে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাদের লাফিয়ে ওঠা, ঢেউ কেটে এগিয়ে যাওয়া এবং দলবদ্ধ বিচরণ।

নীল জলরাশির বুকে কখনো কয়েকটি, কখনো বড় দলে ডলফিনের ছুটোছুটি পর্যটকশূন্য সৈকতে তৈরি করছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, সমুদ্র এখন অনেক শান্ত এবং মানুষের আনাগোনা কম থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ডলফিন তীরের কাছাকাছি চলে আসছে। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের চলাফেরা এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিচ্ছে।

সমুদ্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, ডলফিন অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী। শব্দদূষণ ও মানবিক কর্মকাণ্ড কমে গেলে তারা উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে এবং খাবারের সন্ধানে দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে। শান্ত পরিবেশ তাদের জন্য নিরাপদ আবাস তৈরি করে।

বিচকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের করোনাকালেও পর্যটকশূন্য সময়ে সৈকতের তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপকভাবে ডলফিন দেখা গিয়েছিল। পরে পর্যটকের ভিড় বাড়লে তাদের উপস্থিতি কমে যায়। এবার আবার সেই পরিচিত দৃশ্য ফিরে এসেছে। বিকেলের আলোয় সমুদ্রের বুকে ডলফিনের লাফিয়ে ওঠা, ডুব দেওয়া এবং আবার ভেসে ওঠা যেন প্রকৃতির এক স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে তারা নিজেরাই এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তাদের মতে, দূষণমুক্ত ও কোলাহলহীন পরিবেশই ডলফিনকে তীরের কাছে টেনে আনে। অনেক গবেষক মনে করেন, ঋতু পরিবর্তন, খাদ্য অনুসন্ধান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গেও এদের চলাচলের সম্পর্ক রয়েছে।