থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের পর্যটন শহর চিয়াং মাইয়ে একটি জনপ্রিয় বন্যপ্রাণী পার্কে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৭২টি বাঘের মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং পার্কটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত বাঘগুলোর বেশিরভাগই ছিল টাইগার কিংডম চিয়াং মাই নামের পর্যটনকেন্দ্রের দুটি শাখায় থাকা প্রাণী।

এই পার্কে দর্শনার্থীরা বাঘের খুব কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলা, স্পর্শ করা, এমনকি শিশু বাঘ কোলে নেওয়ার মতো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। এমন অভিজ্ঞতার কারণে জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

স্থানীয় প্রাদেশিক পশুসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, মৃত বাঘগুলোর শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় প্রাণঘাতী ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাস, যা আক্রান্ত প্রাণীর শ্বাসযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। সাধারণত কুকুর এই রোগে আক্রান্ত হলেও বড় বিড়াল প্রজাতি, বিশেষ করে বাঘও এতে সংক্রমিত হতে পারে।

তবে কীভাবে বাঘগুলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলো, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। জাতীয় পশুসম্পদ দপ্তরের পরিচালক সোমচুয়ান রাতানামুংক্লানন স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, অসুস্থতার বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তার ভাষ্য, কুকুর বা বিড়ালের তুলনায় বাঘের রোগ শনাক্ত করা অনেক কঠিন।

এর আগে প্রাথমিক পরীক্ষায় কিছু বাঘের শরীরে ফিলাইন পারভোভাইরাসের উপস্থিতির কথাও জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের জন্য দায়ী কিছু ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্বও মিলেছে বলে জানানো হয়।

মৃত বাঘগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে পরে ছাই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। পার্কটির দুই শাখায় মোট ২৪০টির বেশি বাঘ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিনোদনের উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে বন্দি রেখে প্রদর্শনের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টাইগার কিংডম চিয়াং মাইয়ের সব কার্যক্রম দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।