প্রকৃতির সবচেয়ে নাটকীয় ও শক্তিশালী রূপ দেখা যায় হিমবাহে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা বিশাল বরফের নদী, নীল আলো ঝলমল করা আইস কেভ, কিংবা হিমশীতল বাতাসে ভেসে থাকা বরফখণ্ড, সব মিলিয়ে গ্লেসিয়ার ভ্রমণ মানেই এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সত্ত্বেও বিশ্বের কিছু বিখ্যাত হিমবাহ এখনো অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের টানে। জীবনে অন্তত একবার যেসব গ্লেসিয়ার দেখা উচিত, সেগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
পেরিতো মোরেনো গ্লেসিয়ার, আর্জেন্টিনা
প্যাটাগোনিয়ার লস গ্লেসিয়ারেস ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত পেরিতো মোরেনো বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় হিমবাহ। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গ্লেসিয়ার লেক আর্জেন্টিনোর ওপর প্রায় ৭০ মিটার উঁচুতে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে পড়ার সময় যে গর্জন শোনা যায়, তা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আইস ট্রেকিং এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা।
ভাটনাইয়োকুল গ্লেসিয়ার, আইসল্যান্ড
ইউরোপের সবচেয়ে বড় হিমবাহ ভাটনাইয়োকুল আইসল্যান্ডের প্রায় ৮ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে। বরফের নিচে আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি একে করেছে আরও রহস্যময়। শীতকালে এখানকার আইস কেভগুলো নীল আলোয় ঝলমল করে। গ্লেসিয়ার হাইকিং, আইস ক্লাইম্বিং আর কেভ এক্সপ্লোরেশনের জন্য এটি আদর্শ।
ফ্রাঞ্জ জোসেফ গ্লেসিয়ার, নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে অবস্থিত এই গ্লেসিয়ার প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যার চারপাশে রয়েছে সবুজ রেইনফরেস্ট। বরফ আর ঘন জঙ্গলের এই বৈপরীত্য একে বিশ্বের সবচেয়ে ফটোগ্রাফড গ্লেসিয়ারগুলোর একটি বানিয়েছে।
অ্যাথাবাস্কা গ্লেসিয়ার, কানাডা
কানাডিয়ান রকি পর্বতমালার আইসফিল্ডস পার্কওয়ের পাশে অবস্থিত অ্যাথাবাস্কা গ্লেসিয়ার উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে সহজে প্রবেশযোগ্য হিমবাহগুলোর একটি। বিশেষ স্নো কোচ বা গাইডেড হাঁটার মাধ্যমে পর্যটকরা সরাসরি বরফের ওপর হাঁটার সুযোগ পান।
খুম্বু গ্লেসিয়ার, নেপাল
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত খুম্বু গ্লেসিয়ার বিশ্বখ্যাত এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকের অংশ। বিশ্বের উচ্চতম গ্লেসিয়ারগুলোর একটি হিসেবে এটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এটি এক আত্মচ্যালেঞ্জের নাম।