ভিড়, ব্যস্ততা আর চেনা পর্যটন স্পটের বদলে এখন তরুণ ভ্রমণকারীরা খুঁজছেন নিরিবিলি, শান্ত ও প্রকৃতির কাছাকাছি গন্তব্য। বড় শহরের আলো-ঝলমল নয়, বরং ছোট গ্রাম, পাহাড়ি এলাকা কিংবা প্রত্যন্ত জনপদই হয়ে উঠছে নতুন পছন্দ। কায়াকের ২০২৬ সালের ‘হোয়াট দ্য ফিউচার (WTF)’ রিপোর্ট বলছে, এই প্রবণতাই আগামী বছরের ভ্রমণ দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড।
রিপোর্টে দেখা গেছে, জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়ালদের প্রায় ৮৪ শতাংশই ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য গ্রামীণ এলাকা বা ছোট শহরকে প্রাধান্য দিতে চান। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শান্ত পরিবেশ, ভিড়মুক্ত অভিজ্ঞতা এবং তুলনামূলক কম খরচ। পর্যটকদের একটি বড় অংশ বলছে, জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো এখন অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ও একঘেয়ে হয়ে গেছে।
সার্চ ট্রেন্ডেও মিলছে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আইফেল টাওয়ারের মতো বিখ্যাত স্থানগুলোর খোঁজ কমছে। বরং ৬৯ শতাংশ জেন জেড এবং ৬৬ শতাংশ মিলেনিয়াল নতুন, কম পরিচিত জায়গা খুঁজছেন, যেগুলো এখনো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়নি। টিকটকের #hiddengems হ্যাশট্যাগের ব্যবহার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা লুকানো গন্তব্যের প্রতি আগ্রহেরই প্রমাণ।
ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রতি চারজন তরুণের একজন বন্ধুদের পরামর্শের চেয়ে এআইয়ের রেকমেন্ডেশনে বেশি ভরসা করছেন। প্রায় ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো বিকল্প পেলে এআইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী গন্তব্য বদলাতেও রাজি তারা। সস্তা ডিল, ব্যক্তিগত সূচি এবং বিকল্প রুট খুঁজতে এআই ব্যবহার করছেন অনেকেই।
ভ্রমণ এখন শুধু আনন্দ নয়, মানসিক সুস্থতার অংশও। প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ বলছেন, তাদের ভ্রমণের মূল লক্ষ্য মানসিক বিশ্রাম। ‘ডিসেলারেশন ট্রাভেল’ অর্থাৎ ধীরগতির ভ্রমণ জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে মূল বিষয় হলো আরাম, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং ডিজিটাল ডিটক্স।
এ ছাড়া দীর্ঘ ছুটির বদলে ছোট ছোট ভ্রমণের প্রবণতাও বাড়ছে। ২০২৬ সালে ৬৭ শতাংশ তরুণ একবারের বড় ভ্রমণের চেয়ে একাধিক ছোট সফর করতে চান। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কিস্তি বা ক্রেডিট সুবিধা ভ্রমণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।