মৌলভীবাজারের রাজনগরে কাউয়াদীঘি হাওরের ভুরভুরি বিলের পাশে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি সেতু এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করছে। চারপাশের জলরাশি, সবুজ বৃক্ষরাজি, বর্ষায় শাপলা-শালুক আর নৌকায় হাওর ঘোরার সুযোগ মিলিয়ে জায়গাটি ধীরে ধীরে বিকেলবেলার জনপ্রিয় ভ্রমণস্থলে পরিণত হয়েছে।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামের পাশে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়কে জোড়া সেতুটির অবস্থান। পুরোনো সেতুর পাশে সড়ক সোজা করার জন্য নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের পর এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ নামে পরিচিতি পায়।

সেতুর দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং চারপাশে চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সবুজ ছায়া রয়েছে। বর্ষায় পানিতে ঘেরা পরিবেশ আর শুষ্ক মৌসুমে ধানক্ষেতের সবুজ ও সোনালি রূপ এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কাউয়াদীঘি হাওর মৌলভীবাজারের অন্যতম বড় মিঠাপানির জলাভূমি এবং জেলার তিনটি প্রধান হাওরের একটি।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার বিকেল থেকে এখানে মানুষের ভিড় বাড়ে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই খোলা প্রকৃতি উপভোগ করতে আসেন। কেউ কেউ নৌকায় হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

পর্যটকদের কেন্দ্র করে সেতুর আশপাশে ছোট ছোট দোকানও গড়ে উঠেছে। চটপটি, শরবত, চা, পানসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয়রা। এতে কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

স্থানীয় শাহীনুল আলম বলেন, বর্ষায় জলের মধ্যে বাড়িঘরগুলো অনেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখায়। আর ধান কাটার মৌসুমে পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ নেয়। এসব দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন।

তবে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়লেও এখানে কোনো গণশৌচাগার নেই। এতে বিশেষ করে নারী পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় শরবত বিক্রেতা মিজু মিয়া পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি গণশৌচাগার ও শেড নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জোড়া সেতু এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত নিয়মিত হলে গণশৌচাগার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।