বিমানযাত্রায় খাবার পরিবেশনের সময় নিয়ে অনেক যাত্রীরই কৌতূহল থাকে। ফ্লাইট শুরুর কিছুক্ষণ পর খাবার আসে, আবার অবতরণের আগেই ট্রে গুছিয়ে নেওয়া হয়। এই নির্দিষ্ট সময়সূচির পেছনে শুধু খাবার ব্যবস্থাপনা নয়, জড়িয়ে থাকে যাত্রী নিরাপত্তা, কেবিন ক্রুদের কাজের সমন্বয় এবং পুরো ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা।
ফ্লাইটের মোট সময়, যাত্রার সময়সূচি ও গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এয়ারলাইনগুলো খাবার পরিবেশনের পরিকল্পনা করে। দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে একাধিকবার খাবার ও পানীয় দেওয়া হতে পারে, আর স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় সময় সীমিত থাকায় খাবার পরিবেশনের সুযোগও কম থাকে।
নিরাপত্তা বিবেচনাই গুরুত্বপূর্ণ
বিমানে খাবার পরিবেশনের সময় কেবিন ক্রুদের ট্রলি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এ সময় বিমান ঝাঁকুনির মধ্যে পড়লে খাবার ও গরম পানীয় বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সাধারণত বিমানের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলে খাবার পরিবেশন করা হয়।
মাঝপথে ঝাঁকুনির সম্ভাবনা দেখা দিলে খাবার পরিবেশন পিছিয়ে দেওয়া বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পায়।
অবতরণের আগেই কেন ট্রে সরানো হয়?
ফ্লাইটের শেষ পর্যায়ে বিমান অবতরণের প্রস্তুতি শুরু হলে যাত্রীদের সিটে খাবারের ট্রে রেখে দেওয়া যায় না। কেবিন ক্রুদের ট্রে, কাপ ও অন্যান্য সামগ্রী গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখতে হয় এবং কেবিনকে অবতরণের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা অবস্থায় নিতে হয়।
এ সময় যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হয়। তাই অবতরণের বেশ কিছুক্ষণ আগেই খাবার পরিবেশন শেষ করা হয়।
খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনেরও রয়েছে পরিকল্পনা
বিমানে পরিবেশন করা অনেক খাবার আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে এবং বিমানের রান্নাঘরে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গরম করা হয়। খাবার গরম করা, শত শত যাত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরে ট্রে সংগ্রহ করতে যথেষ্ট সময় ও সমন্বয় প্রয়োজন।
দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীদের বিশ্রামের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় খাবার পরিবেশনের পর কেবিনের আলো কমিয়ে বিশ্রামের পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে।
সব ফ্লাইটে অবশ্য একই সময়ে খাবার দেওয়া হয় না। ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য, সময়, গন্তব্য, এয়ারলাইনের নীতি এবং যাত্রাপথের পরিস্থিতির ওপর খাবার পরিবেশনের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।