কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে রাঙামাটির অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে শনিবার দুপুর থেকে সেতুটিতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বাড়ায় রাঙামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সেতুটির পাটাতন পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে সেতুটির বেশিরভাগ অংশ পানির নিচে থাকায় সেখানে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেতুটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বেড়ে ১০৫ এমএসএল অতিক্রম করে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
তবলছড়ি এলাকায় অবস্থিত ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন নির্মাণ করে। দুই পাহাড়ের মাঝখানে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই সেতু দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
বর্ষাকালে হ্রদের পানি বাড়লে সেতুটির কিছু অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের কোনো কোনো সময়ে সেতুটি হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত থাকে।