রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ইতিহাস, স্মৃতি ও নতুন এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার আগ্রহে নানা বয়স ও পেশার মানুষ ছুটছেন শেরেবাংলা নগরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। কারও আগ্রহ জাদুঘরের সংগ্রহ নিয়ে, আবার কেউ দেখতে চান একসময়কার গণভবনের অন্দরমহল। নিছক ঘোরাঘুরির শখ থেকেও এসেছেন অনেক দর্শনার্থী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ছুটির দিনে দুপুর থেকেই জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল। তবে অন্যান্য শুক্রবার বা সাধারণ ছুটির দিনের তুলনায় উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধু বা পরিচিতজনের সঙ্গে, আবার কেউ একাই।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য টিকিট সংগ্রহ করে অপেক্ষা করছিলেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই স্থানটির প্রতি আগ্রহের কারণও ভিন্ন ভিন্ন।
পাবনা থেকে ঢাকার শেওড়াপাড়ায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা মো. মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, আগে গণভবনের সামনে দিয়ে অনেকবার গেলেও ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সেই কৌতূহল থেকেই জাদুঘরে এসেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘কিভাবে প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তার লাইফস্টাইল কি, ভেতরের পরিবেশ কেমন, এগুলো দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই মূলত আজকে আসা।’’
কুমিল্লা থেকে ভর্তি কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় আসা আইয়ুব খন্দকার বলেন, প্রতিদিন জাদুঘরের সামনে দিয়ে যাতায়াত করলেও ভেতরে কী আছে, তা জানা হয়নি। তাই ছুটির দিনে ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরে দেখতে এসেছেন তিনি।
ভ্রমণপ্রেমী নারায়ণগঞ্জের মো. রাকিবুর রহমান তুহিনের কাছে এটি ছিল দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার আগ্রহের অংশ। তিনি বলেন, শখের বসে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি জেলা ঘুরেছেন এবং ৬৪ জেলা ঘোরার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
তুহিন বলেন, ‘‘সে হিসাবে ঢাকায় এই জাদুঘর না দেখলে কেমন হয়। তাই এটা দেখতে এসেছি। ভেতরে কেমন কী করেছে, সেটাই দেখাই মূল উদ্দেশ্য।’’
সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আসা আরাফাত হোসেন জানান, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে জাদুঘর সম্পর্কে জেনেছেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও স্মারকগুলো কাছ থেকে দেখতেই এসেছেন।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ইতিহাস ও স্মৃতিনির্ভর একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠছে। তবে শুক্রবারের উপস্থিতি অন্যান্য ছুটির দিনের তুলনায় কম ছিল বলে জানিয়েছেন জাদুঘরসংশ্লিষ্টরা।