নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপাল ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাপথের কাছাকাছি এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের শত শত পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা পর্যটকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলা ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধস বা আকস্মিক প্রবল জলপ্রবাহের কারণে এ বিপর্যয় ঘটে। ভুটেকোশি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম, সেতু, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো পানির তোড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ট্রেকিং ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ৬৪৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
অনেক ভারতীয় পর্যটক হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে এই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। অন্যদিকে হিমালয়প্রেমী ট্রেকারদের কাছেও রাসুয়া ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণগন্তব্য।
উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। কয়েক ডজন পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রাসুয়া ও নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় বন্যায় সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত নেপালজুড়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার কোনো সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পর্যটকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ, আবহাওয়া ও সড়কের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই এবং দুর্গত পার্বত্য অঞ্চল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্গম ট্রেকিং রুটে ভ্রমণ বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।