নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সময় ওই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে কেন এত পর্যটক ও তীর্থযাত্রী অবস্থান করছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর উত্তর লুকিয়ে আছে হিমালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমির হ্রদ এবং ধর্মীয় তীর্থযাত্রার মৌসুমে। মানস সরোবর ও গোসাইকুণ্ডকে কেন্দ্র করে বছরের এই সময়ে অঞ্চলটিতে পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর ভিড় বাড়ে।
বুধবারের আকস্মিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, তারা ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যার কয়েক ঘণ্টা পর প্রায় ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি এবং নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত অঞ্চলের আশপাশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমির হ্রদ রয়েছে। একটি তিব্বতে কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলায় অবস্থিত গোসাইকুণ্ড। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এসব স্থান ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বছরের এই সময়টিতে, বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রার আগ্রহ বেশি থাকে। একই সময়ে অনেক তীর্থযাত্রী পবিত্র গোসাইকুণ্ড হ্রদে স্নান ও ধর্মীয় আচার পালনের জন্য সেখানে যান।
অ্যালপাইন কৈলাস ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পণ্ডিত বলেন, এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভ্রমণপথ। এ সময় পর্যটকেরা এই পথে যাত্রা করেন, কারণ পূর্ণিমা দেখা যায়। ধর্মীয়ভাবে পূর্ণিমাকে শুভ বলে মনে করা হয়।
গোসাইকুণ্ড নেপালের অন্যতম পরিচিত উচ্চভূমির তীর্থ ও ট্রেকিং গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদে ধর্মীয় উৎসবের সময় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকারীরা কাদামাটির নিচে চাপা পড়া জীবিত মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।