টানা ছুটিকে সামনে রেখে টাঙ্গুয়ার হাওরমুখী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পরিবেশ রক্ষা, নৌযাত্রার নিরাপত্তা এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটক ও নৌযান পরিচালকদের এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকে টানা চার দিনের অবকাশে হাওর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। এ সময় টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার আগে প্রশাসনের ১৩টি নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।
প্রশাসনের ১৩ নির্দেশনা
১. ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ন্ত্রণ: প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএভুক্ত অংশে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ। তবে হাওরের অন্যান্য অংশে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌকা চলাচলে বাধা নেই। পর্যটকবাহী নৌকা মাটিয়ান হাওর ও বৌলাই নদ হয়ে টেকেরঘাট পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
২. নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: সব হাউসবোটের নিবন্ধন থাকতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো হাউসবোট বা নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
৩. উচ্চ শব্দে বিনোদন নিষিদ্ধ: হাউসবোটে উচ্চ স্বরে গানবাজনা, মাইক ব্যবহার ও পার্টির আয়োজন করা যাবে না।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ: ভ্রমণের সময় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না।
৫. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা: নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখা বাধ্যতামূলক।
৬. বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা: হাউসবোটে সেপটিক ট্যাংক এবং অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে।
৭. জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না: হাওর বা কোনো জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৮. হাউসবোটের আকার: হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে রাখতে হবে।
৯. নিরাপত্তাসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে: পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
১০. পর্যটকদের আচরণবিধি জানাতে হবে: নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে আচরণবিধি প্রদর্শন করতে হবে এবং যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের তা জানাতে হবে।
১১. জরুরি যোগাযোগ নম্বর রাখতে হবে: জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে।
১২. পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রতিটি ট্যুরে কার্যকর ও পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ভ্রমণ বন্ধ: ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখতে হবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।