মরুভূমির শহর দুবাইয়ে প্রকৃতির এক ব্যতিক্রমী রূপ দেখতে চাইলে মিরাকল গার্ডেন হতে পারে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। লাখো রঙিন ফুল, ফুলে সাজানো বিশাল স্থাপনা ও অভিনব নকশার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বাগান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের টেনে আনে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইল্যান্ড এলাকায় অবস্থিত দুবাই মিরাকল গার্ডেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ফুলের বাগানগুলোর একটি। প্রায় ৭২ হাজার বর্গমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে প্রতি মৌসুমে ১৫ কোটির বেশি ফুলের সমাহার দেখা যায়। ২০১৩ সালে চালু হওয়া বাগানটি এখন দুবাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।
বাগানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ফুল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের স্থাপনা ও ভাস্কর্য। কোথাও প্রাণীর অবয়ব, কোথাও হৃদয় আকৃতির ফুলের পথ, আবার কোথাও বিশাল উড়োজাহাজের প্রতিরূপ। এর মধ্যে এমিরেটস এয়ারবাস এ৩৮০-এর আদলে তৈরি ফুলের স্থাপনাটি বিশেষভাবে পরিচিত। এতে পাঁচ লাখের বেশি তাজা ফুল ও জীবন্ত উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়েছে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দুবাই ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে বুর্জ খলিফা, মরুভূমি ভ্রমণ ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি মিরাকল গার্ডেন একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। শীতল আবহাওয়ার মৌসুমে বাগানটি সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে। গ্রীষ্মের তীব্র গরমের কারণে সাধারণত কয়েক মাস এটি বন্ধ রেখে নতুন মৌসুমের জন্য সংস্কার ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ থেকেও বহু পর্যটক দুবাই ভ্রমণের সময় এই বাগান দেখতে যান। সম্প্রতি মিরাকল গার্ডেন ঘুরতে আসা বাংলাদেশি পর্যটক মো. ইফতেখার ওরফে সোহেল বলেন, বুর্জ খলিফা দেখার পর বন্ধুদের নিয়ে তিনি এই ফুলের বাগান দেখতে এসেছেন। তার ভাষায়, দুবাইয়ের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে মিরাকল গার্ডেনের পরিবেশ ও ফুলের নকশা বিশেষভাবে উপভোগ্য।
দুবাইয়ের পর্যটন অবকাঠামো ও দর্শনার্থীবান্ধব সেবার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন।