যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইউটাহর মরুভূমিতে প্রকৃতির তৈরি সরু পাথুরে পথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে ওয়্যার পাস হতে পারে ভিন্নধর্মী এক গন্তব্য। উঁচু বেলেপাথরের দেয়াল, আঁকাবাঁকা গিরিখাত ও প্রাচীন শিলাচিত্র মিলিয়ে প্যারিয়া ক্যানিয়ন-ভারমিলিয়ন ক্লিফস ওয়াইল্ডারনেস এলাকার এই পথ প্রকৃতিপ্রেমী ও রোমাঞ্চভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো বা বিএলএম পরিচালিত ওয়্যার পাস তুলনামূলক নিরিবিলি একটি স্লট ক্যানিয়ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিত অ্যান্টিলোপ ক্যানিয়নের তুলনায় এখানে অনেকটাই শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে।

ওয়্যার পাস ট্রেইলহেড থেকে বাকস্কিন গাল্চের মিলনস্থল পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১ দশমিক ৭ মাইল। যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৫ মাইলের এই পথ ঘুরে দেখতে সময় লাগতে পারে কয়েক ঘণ্টা। সহজ থেকে মাঝারি মাত্রার এই হাঁটার পথে প্রথমে খোলা মরুভূমির পথ পেরিয়ে প্রবেশ করতে হয় সরু ক্যানিয়নে।

পথের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ঢেউখেলানো ও স্তরবিন্যস্ত বেলেপাথরের দেয়ালের মাঝ দিয়ে হাঁটা। দুই পাশের উঁচু দেয়ালের ফাঁক দিয়ে এগোতে এগোতে বদলে যেতে থাকে পাথরের রং, আলো ও আকৃতি। জল ও বাতাসের দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের ফলে তৈরি এই ভূপ্রকৃতি দক্ষিণ ইউটাহর স্লট ক্যানিয়নগুলোর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে।

হাঁটার শেষপ্রান্তে ওয়্যার পাস গিয়ে মিলেছে বাকস্কিন গাল্চের সঙ্গে। মিলনস্থলের আশপাশে রয়েছে প্রাচীন পেট্রোগ্লিফ বা পাথরে খোদাই করা শিলাচিত্র, যা ভ্রমণে প্রকৃতি ও ভূতত্ত্বের সঙ্গে ইতিহাসেরও একটি মাত্রা যোগ করে।

তবে স্লট ক্যানিয়নে ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি। হঠাৎ বৃষ্টি বা দূরবর্তী এলাকায় ভারী বর্ষণ হলেও সরু গিরিখাতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিএলএমের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় দিনের ভ্রমণের জন্যও অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে দক্ষিণ ইউটাহর অনন্য ভূপ্রকৃতি দেখতে এবং পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে রোমাঞ্চকর পদভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে ওয়্যার পাস হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।