খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের দুটি স্থানে পাহাড়ধসের পর মাটি পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সড়ক দিয়েই সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াত করতে হয়। ফলে শনিবার সকাল থেকে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টির ঘটনা আর ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

অতি ভারী বৃষ্টিতে মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় আমনের খেতও পানিতে ডুবে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

দীঘিনালার জামতলী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরে পানি। গত মাসের শুরুতে হওয়া বন্যায়ও আমাদের ঘরে পানি ঢোকেনি। কিন্তু গতকাল রাতের বৃষ্টিতে পানি উঠে গেছে। আশপাশের এলাকাগুলো ডুবে গেছে।’

আরেক বাসিন্দা অনলেন্দু ত্রিপুরা বলেন, ‘গতকাল রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। আশপাশের পাহাড়ি ছড়ায় খুব একটা পানি ছিল না। এত বৃষ্টি এ বছরে আর দেখিনি।’

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, ‘গতকাল রাতে মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন বৃষ্টি আর হয়নি।’

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধসে পড়া অংশ বেশ বড় হলেও মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।