সবচেয়ে দামি ৫টি ট্যুর প্যাকেজ: খরচ কত, কী কী ছিল?

ভ্রমণ মানেই শুধু ঘোরাঘুরি নয়—বিশ্বের অতি ধনীদের জন্য এটি হতে পারে কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা। আজ জানব এমন পাঁচটি ব্যয়বহুল ট্যুর প্যাকেজের কথা।

প্রথমে আশি পাঁচ নম্বর। এমিরেটস প্যালেসের মিলিয়ন ডলার হলিডে।

আবুধাবির এমিরেটস প্যালেস ২০০৮ সালে দুই অতিথির জন্য সাত দিনের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার দাম ছিল ১০ লাখ মার্কিন ডলার। এতে ছিল বিলাসবহুল স্যুইটে থাকা, প্রথম শ্রেণির বিমানভ্রমণ, ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালক, স্পা এবং ইরান, জর্ডান ও বাহরাইনে ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ।

চার নম্বরে আছে ক্যালালা আইল্যান্ডের এক মিলিয়ন ডলারের ভ্রমণ।

নিকারাগুয়ার উপকূলের কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্যালালা আইল্যান্ডে এক সপ্তাহের এই প্যাকেজটির দাম ছিল ১০ লাখ ডলার। সর্বোচ্চ ১০ জন অতিথির জন্য পুরো দ্বীপটি ব্যবহারের সুযোগ, ব্যক্তিগত জেট ও হেলিকপ্টার, ডাইভিং, বিলাসবহুল খাবার এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সোনা ও মুদ্রা রাখা গুপ্তধনের খোঁজ ছিল প্যাকেজটির বিশেষ আকর্ষণ।

তিন নম্বরে ভেরিফাস্টটুর দুই বছরের বিশ্বভ্রমণ।

এই প্যাকেজের দাম ছিল প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড। দুই বছর ধরে বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশ এবং ৯৬২টি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোরার পরিকল্পনা ছিল এতে। ভ্রমণের সঙ্গে ছিল বিলাসবহুল হোটেলে থাকা ও বিজনেস ক্লাস বিমানভ্রমণ।

দুই নম্বরে আছে প্যানাচে ক্রুসের ২১ লাখ ডলারের বিশ্বভ্রমণ।

১৪০ দিনের এই সমুদ্র ও স্থলভ্রমণ ছিল দুইজনের জন্য। ছয়টি মহাদেশের ৪০টি দেশ ও ৭১টি বন্দরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সমুদ্রযাত্রায় ছিল রেগেন্ট সেভেন সিস স্প্লেন্ডারের বিলাসবহুল রিগেন্ট সুইট, আর নিউইয়র্কে এক রাতের জন্য ৭৬ হাজার ডলার মূল্যের পেন্টহাউসও ছিল প্যাকেজের অংশ। মোট দাম ২১ লাখ ডলার।

আর এক নম্বরে ড্রিমমেকারের ‘পাসপোর্ট টি ফিফটি’ প্যাকেজ।
এবার আসা যাক তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ প্যাকেজে। ২০১৭ সালে মার্কিন বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ড্রিমমেকার সর্বোচ্চ ৫০ জনের জন্য ঘোষণা করেছিল ১৩ দশমিক ৮৭৫ মিলিয়ন ডলারের এই ভ্রমণ। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকারও বেশি, যদি প্রতি ডলার ১১৫ টাকা ধরে হিসাব করা হয়।

মাত্র ২০ দিনে ২০টি শহর ঘোরানো হবে এই ভ্রমণে। মূল অতিথির জন্য ছিল ব্যক্তিগতভাবে সাজানো বোয়িং ৭৬৭, আর তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের জন্য আরেকটি বোয়িং বিজনেস জেট। ভ্রমণের সঙ্গে ছিল বিশেষ খাবার, যোগব্যায়াম, ফ্যাশন শো এবং এমনকি হীরাখচিত ১৮ ক্যারেট সোনার পানীয়ের স্ট্র-ও।

অর্থাৎ, বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ভ্রমণে শুধু গন্তব্য নয়—পুরো যাত্রাটাকেই বানানো হয় এক বিরল অভিজ্ঞতা।