কে-ড্রামার পরিচিত গলি, কে-ফুডের স্বাদ, জনপ্রিয় প্রসাধনী, নিত্যদিনের ক্যাফে সংস্কৃতি কিংবা শহরের মধ্যেই পাহাড়ে হাঁটার সুযোগ। সিউলের আকর্ষণ এখন শুধু প্রাসাদ, জাদুঘর বা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই। তরুণ বিদেশি পর্যটকেরা শহরটির দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতাকেও ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হিসেবে দেখছেন।
এই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন মিলেছে ২০২৬ সালের ‘দ্য ট্র্যাজিজ’ পুরস্কারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ প্রকাশনা ট্র্যাজি ট্রাভেলের পাঠক ভোটে জেন-জি ও মিলেনিয়ালদের পছন্দের বিশ্বসেরা শহর হয়েছে সিউল। ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী পাঠকদের ভোটে টানা পঞ্চমবার এই স্বীকৃতি পেয়েছে শহরটি। একই সঙ্গে পেয়েছে বিশেষ ‘কুইন্ট স্ট্যাটাস’ এবং জায়গা করে নিয়েছে ‘হল অব ফেমে’।
দৈনন্দিন জীবনই পর্যটনের নতুন আকর্ষণ
সিউলের জনপ্রিয়তা বাড়ার অন্যতম কারণ জীবনধারাভিত্তিক পর্যটন। পর্যটকেরা এখন শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার বদলে স্থানীয় মানুষের খাবার, কেনাকাটা, ক্যাফে, ফ্যাশন ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা নিতে চাইছেন।
সংসু-দংয়ের আধুনিক দোকান ও ক্ষণস্থায়ী প্রদর্শনী, দোংমিয়ো ফ্লি মার্কেটের পুরোনো পণ্যের বাজার এবং উলজিরোর পুরোনো গলির ক্যাফে সংস্কৃতি তরুণদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
কে-ফুডও এই অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গোয়াংজাং মার্কেটে মুগ ডালের প্যানকেক, টপোক্কি ও অন্যান্য কোরীয় খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক পর্যটকের কাছে কে-ড্রামায় দেখা দৃশ্যকে বাস্তব করে তুলছে। ২০২৫ সালে গোয়াংজাং মার্কেটে বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা ১০.৪ শতাংশ বেড়েছে।
শহরেই পাহাড়, বাজার ও আধুনিক স্থাপনা
বিদেশি পর্যটকদের চলাচল এখন সিউলের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও বাড়ছে। ২০২৫ সালে ডংদেমুন ডিজাইন প্লাজায় বিদেশি পর্যটক বেড়েছে ১২.১ শতাংশ, আচাসান পাহাড়ে ১১.৮ শতাংশ, হোংদে ও নাকসান পার্কে ১০.৫ শতাংশ করে এবং গোয়ানাকসান পাহাড়ে ১০ শতাংশ।
সিউলের সহজ গণপরিবহন ব্যবস্থাও এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। কেনাকাটা বা খাবারের পর একই শহরের মধ্যে দ্রুত পাহাড়ি ট্রেইলে পৌঁছানো যায়। ফলে নগরভ্রমণ ও প্রকৃতিভিত্তিক ভ্রমণকে একই সফরে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
পর্যটনে বাড়ছে অর্থনৈতিক প্রভাব
সিউলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে শহরটিতে ১৫ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি পর্যটক গেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৮ শতাংশ বেশি। একই মাসে বিদেশি পর্যটকদের কার্ডে খরচ হয়েছে ১ দশমিক ১৫৩ ট্রিলিয়ন কোরীয় ওন, যা এক বছরে ৫০.৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে ২০২৫ সালে সিউল ৩১৭টি আন্তর্জাতিক সভা আয়োজন করে এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় হয়েছে। এতে অবকাশযাপন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ, দুই ক্ষেত্রেই শহরটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তরুণ পর্যটকদের এই আগ্রহ ধরে রাখতে সিউল নগর সরকার ও সিউল পর্যটন সংস্থা স্থানীয় খাবার, কেনাকাটা, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে যুক্ত করে আরও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন আয়োজন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে কে-পপ ও কে-ড্রামার জনপ্রিয়তার বাইরে সিউলের নিজস্ব নগরজীবনও এখন আন্তর্জাতিক পর্যটনের বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে।