ওয়েলশ জনগোষ্ঠী বহু শতাব্দী ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া ও ওহাইও থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া পর্যন্ত তাদের বসতি। তবে চারশ বছর আগে এক ওয়েলশ ব্যক্তি আরও বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন— আটলান্টিকের ওপারে গড়ে তুলবেন সম্পূর্ণ একটি নতুন ওয়েলস।
এই স্বপ্নের নাম ছিল নিউ ক্যামব্রিওল, যার অর্থ ‘নতুন ওয়েলস’। ১৬১৬ সালে ওয়েলসের কারমার্থেনশায়ারের আইনজীবী, কবি ও পণ্ডিত স্যার উইলিয়াম ভন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের অ্যাভালন উপদ্বীপে বিশাল এক ভূখণ্ড কিনে নেন। সেখানে তিনি দ্বিতীয় একটি ওয়েলস গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন।
সে সময় ওয়েলসে ছিল চরম দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের সংকট। ভনের বিশ্বাস ছিল, দেশের সমস্যার সমাধানের চেয়ে নতুন দেশে অভিবাসনই ওয়েলশদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ। তিনি এই নতুন ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানের ওয়েলশ নামকরণ করেন এবং এমন একটি স্বনির্ভর ওয়েলশ বসতি গড়তে চেয়েছিলেন, যেখানে কৃষি ও মাছ ধরা হবে প্রধান জীবিকা।
তবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছিল কঠিন। ১৬১৭ সালে প্রথম বসতি স্থাপনকারীরা অ্যাকুয়াফোর্তে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ছিল না। মৌসুমি মৎস্যশিকারিদের অস্থায়ী আশ্রয় ছাড়া বসবাসের উপযুক্ত ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। খাদ্য ও অন্যান্য সরবরাহও ছিল অপ্রতুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, কারণ অসুস্থতার কারণে ভন নিজেই প্রথম দলটির সঙ্গে যেতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ উপনিবেশ স্থাপনকারী রিচার্ড হুইটবর্নের সাহায্য নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ১৬১৯ সালের শীতে সেখানে মাত্র ছয়জন বসতি স্থাপনকারী অবশিষ্ট ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারাও প্রকল্পটি ছেড়ে চলে যান।
তবু ভন হাল ছাড়েননি। ১৬২৬ সালে তিনি দ্য গোল্ডেন ফ্লিস নামে একটি বই প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য বসতি স্থাপনকারীদের কাছে নিউ ক্যামব্রিওলের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়। কিন্তু ধনী ওয়েলশদের এই প্রকল্পে আকৃষ্ট করতে তিনি ব্যর্থ হন। কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ জমি অন্য উপনিবেশকারীদের কাছে বিক্রি হয়ে যায়।
আজ চারশ বছর পর নিউ ক্যামব্রিওলকে ব্যর্থ এক উপনিবেশ হিসেবেই দেখা হয়। তবে এর ইতিহাস উপনিবেশবাদ, ব্যর্থ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ওয়েলশদের ‘নতুন ওয়েলস’ গড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় নিউ ক্যামব্রিওলের গল্প আজও রয়ে গেছে।