বেরিং প্রণালির মাঝখানে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা দুটি দ্বীপের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সীমান্তই নয়, রয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখরেখাও। ফলে একই আকাশের নিচে পাশাপাশি থাকা বিগ ডায়োমিড ও লিটল ডায়োমিডে ক্যালেন্ডারের হিসাবে প্রায় এক দিনের ব্যবধান দেখা যায়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপ খালি চোখেই দেখা যায়।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা বিগ ডায়োমিড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অংশ লিটল ডায়োমিড বেরিং প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত। সবচেয়ে কাছের স্থানে দ্বীপ দুটির দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। মাঝখান দিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক তারিখরেখা। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির তথ্যেও এই দূরত্ব ও তারিখরেখার অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুটি দ্বীপকে অনেকে ‘গতকালের দ্বীপ’ ও ‘আগামীকালের দ্বীপ’ নামে চেনেন। লিটল ডায়োমিড থেকে বিগ ডায়োমিডের দিকে তাকালে যেন ভবিষ্যতের দিকে তাকানো হচ্ছে, আর উল্টো দিক থেকে দেখলে মনে হয় গতকালের দিকে তাকানো হচ্ছে।
এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা। এটি পৃথিবীর ক্যালেন্ডারে তারিখ পরিবর্তনের একটি কাল্পনিক সীমা। রেখাটি অতিক্রম করলে তারিখ এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যায়। তাই দুই দ্বীপের স্থানীয় সময়ের ব্যবধান ঋতুভেদে প্রায় ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা হতে পারে।
তবে এই সময়ের পার্থক্যের অর্থ এই নয় যে দুটি দ্বীপে সূর্যের গতি আলাদা। পৃথিবীর ঘূর্ণনও সেখানে ভিন্ন নয়। মূল বিষয় হলো ভিন্ন সময় অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক তারিখরেখার অবস্থান।
বিগ ডায়োমিড রাশিয়ার পূর্বপ্রান্তের একটি দ্বীপ, আর লিটল ডায়োমিড আলাস্কার অংশ। নাসার উপগ্রহচিত্রে দুটি দ্বীপের অবস্থান এবং তাদের মাঝ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ভ্রমণ ও ভূগোলের দৃষ্টিতে ডায়োমিড দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব এখানেই। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি দেশ, দুটি সময় অঞ্চল এবং ক্যালেন্ডারের দুই ভিন্ন দিন যেন একই দৃশ্যপটে মিলেছে।