চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকতে ছুটির দিনে হাজারো পর্যটকের সমাগম হলেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে অভিযোগ। সৈকতের বালুচরে শত শত মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার অভাব এবং টোল আদায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের প্রবেশমুখে যানবাহন থামিয়ে টোলের রসিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পর্যটকদের জন্য সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পার্কিং ব্যবস্থাপনা নেই। ভারী বর্ষণ ও প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধ ও প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো সরাসরি বালুচরে নেমে যাচ্ছে।

সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অভিযোগ, বালুচরে মোটরসাইকেল নিয়ে উচ্চগতিতে রাইড ও রেস চলছে। ভাটার সময় পানি সরে গেলে পথচারী ও শিশুদের কাছাকাছি গিয়েও মোটরসাইকেল চালানো হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নগরীর কাজী দেউড়ী এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক আবছার মোস্তফা বলেন, সৈকত মানুষের শান্তিতে হাঁটাচলার জায়গা। কিন্তু এখানে মোটরসাইকেলের কারণে শিশুদের নিয়ে বালুচরে নামার সুযোগ নেই। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, সৈকতের পার্কিং ও টোল আদায় নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। মোজাম্মেল নামের এক প্রাইভেটকার চালকের দাবি, তিনি সৈকতের পার্কিংয়ে না গিয়ে একটি বেসরকারি রিসোর্টের অতিথিদের নামিয়ে দিতে গেলেও গাড়ি আটকে ৭৫ টাকা দাবি করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পার্কিং ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও সাড়া না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে সরাসরি খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লিয়াকত ও আব্দুল হাকিমের নিয়ন্ত্রণে অর্থ আদায় চলছে বলে জানা গেছে।

সৈকতের টোল বক্সে যাত্রীবাহী বাস থেকে ১৫০ টাকা, প্রাইভেটকার থেকে ৭৫ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা এবং মোটরসাইকেল থেকে ২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

পারকি বিচ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, ইউএনও অফিস ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অর্থ আদায়ের দায়িত্বে থাকা লিয়াকত বলেন, প্রশাসনের নিয়ম মেনেই খাস আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তারা। নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে না। বালুচরে মোটরসাইকেল নামানো ঠেকাতে চালকদের নিষেধ করা হলেও তারা বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে নেমে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সুব্রত হালদার বলেন, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস খাস কালেকশন করছে। তবে কার নামে টোকেন দেওয়া হচ্ছে, তা জানা নেই। বিষয়টি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে দেখা হবে।

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক নুরুল আলম বলেন, ছুটির দিনে সৈকতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। পুলিশের দাবি, কিছু মোটরসাইকেল চোরাই পথে সৈকতে নামছে এবং এর সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোক জড়িত। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা, সৈকতের পরিবেশ ও স্বাভাবিক বিনোদন নিশ্চিত করতে বালুচরে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ এবং পার্কিং ও টোল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।