সুন্দরবনের নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকবাহী নৌযানের জন্য নতুন করে পরিবেশ সুরক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নৌযানে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখা, নদীতে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলা এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় মোংলা ফরেস্ট ঘাটের ফুয়েল জেটিতে পরিবেশ অধিদফতর, বাগেরহাট ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের উদ্যোগে নৌযান মালিক ও চালকদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, “প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত প্যাডেল বিন রাখতে হবে। কোনও ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। ভ্রমণ শেষে ডাস্টবিনের জমা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।”
তিনি একই সঙ্গে পর্যটকবাহী নৌযানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
সভায় নৌযান মালিক ও চালকরা মোংলা ফেরিঘাট ও পিকনিক কর্নারে স্থায়ীভাবে তিনটি ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে নদী দূষণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অঙ্গীকার করেন তারা।
সভায় ৫০ জন নৌযান মালিক ও চালক অংশ নেন। তাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সভা শেষে পর্যটকদের সচেতন করতে বিভিন্ন নৌযানে এসব লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন অংশে বন বিভাগের সংরক্ষিত পর্যটন স্পট করমজল অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত পর্যটক মোংলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করমজল ভ্রমণে যান।
পর্যটকেরা সঙ্গে করে নেওয়া চিপস, বিস্কুট, চকলেটের প্যাকেট ও পানির বোতল নদীতে ফেললে সুন্দরবন ও সংলগ্ন নদ-নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই নৌযানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যটকদের সচেতনতা সুন্দরবন ভ্রমণের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।