সৌদি আরবের পরিচিত মরুভূমি আর ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে প্রকৃতি ও শীতল আবহাওয়ার ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে পারে তাইফ। পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এই শহরটি গোলাপের বাগান, সবুজ উপত্যকা, কুয়াশাঘেরা পাহাড় ও ফলের বাগানের জন্য পরিচিত। সৌদি আরব ভ্রমণে প্রকৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতি একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে তাইফ হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।
তাইফের সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য তাইফি গোলাপ। পাহাড়ি এলাকায় চাষ হওয়া এই গোলাপ স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। গোলাপ থেকে সুগন্ধি, গোলাপজল ও বিভিন্ন প্রসাধনীজাত পণ্য তৈরি করা হয়। ভ্রমণকারীরা গোলাপের খামার ও সংশ্লিষ্ট কারখানা ঘুরে এসব তৈরির প্রক্রিয়া দেখার সুযোগও পেতে পারেন।
পাহাড়ের পথে অন্যরকম সৌন্দর্য
তাইফের কাছে আল শাফা পাহাড় প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকায় সারাওয়াত পর্বতমালার বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, জুনিপার গাছের সুবাস ও নিচের উপত্যকার দৃশ্য মিলিয়ে আল শাফার পরিবেশ হয়ে ওঠে অনন্য।
আরেকটি জনপ্রিয় পাহাড়ি গন্তব্য আল হাদা। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, উপত্যকার দৃশ্য ও তুলনামূলক মনোরম আবহাওয়ার জন্য এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি এখানে কেবল কারে চড়ার সুযোগও রয়েছে।
তাইফের পাহাড়ি এলাকায় পাথুরে ভূদৃশ্যের পাশাপাশি ফলের বাগান ও কৃষিজমিও দেখা যায়। ডালিম, আঙুর ও ডুমুরসহ বিভিন্ন ফলের চাষ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে।
গরমের দেশেও শীতল আবহ
সৌদি আরবের অনেক এলাকার তুলনায় তাইফের উচ্চভূমির আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক। বিশেষ করে আল শাফা ও আল হাদার উঁচু এলাকায় পাহাড়ি বাতাস ও কুয়াশার দেখা মেলে। এ কারণে সৌদি আরবের উষ্ণ পরিবেশ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য তাইফ আকর্ষণীয় হতে পারে।
প্রকৃতি ও পাহাড়ের পাশাপাশি তাইফে রয়েছে ঐতিহাসিক এলাকা, স্থানীয় বাজার ও পারিবারিক বিনোদনের বিভিন্ন স্থান। ফলে এক সফরেই পাহাড়ি প্রকৃতি, কৃষি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও শহুরে পরিবেশের অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব।
সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনায় রিয়াদ, জেদ্দা কিংবা আলউলার পাশাপাশি তাইফকে রাখা যেতে পারে। গোলাপের সুবাস, পাহাড়ি কুয়াশা ও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার কারণে শহরটি দেশটির ভ্রমণ মানচিত্রে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।