নারীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ তিন শহরে চালু হলো বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। পিংক রঙের এসব বাস পরিচালনা করবেন নারী চালক ও নারী সহকারীরা। বাসে যাত্রীও থাকবেন শুধু নারী। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি পথে চলবে ১৪টি বাস।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বাসের জন্য অপেক্ষা করা, বাসে ওঠা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে নারীরা যাতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পান, সে লক্ষ্যেই বিশেষ এই পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে, ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস চলবে। চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় দুটি করে দ্বিতল বাস চলবে। তিন শহরে মোট ১৩৪টি স্থানে বাস থামবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি বাস চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকায় নতুন বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আবদুল্লাহপুর, গাজীপুর, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মতিঝিল এবং বিমানবন্দরমুখী যাত্রীরা এই সেবা পাবেন। চট্টগ্রামে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা এবং বগুড়ায় শেরপুর, বনানী ও মোকামতলা এলাকার যাত্রীরা সেবা পাবেন।

বিআরটিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে রাখা হবে এবং ই-টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। তিনটি বাসে সিসি ক্যামেরা এবং প্রতিটি বাসে যানবাহন শনাক্ত ও অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বাসে এসব সুবিধা চালু করা হবে।

নারী যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ গণপরিবহনে ভিড়, আসন সংকট ও হয়রানির কারণে অনেক সময় নিরাপদে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিআরটিসির নারী বাস সার্ভিসের আগের অভিজ্ঞতা অবশ্য খুব আশাব্যঞ্জক ছিল না। ১৯৯৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এবং ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু হলেও পর্যাপ্ত বাস, অনিয়মিত চলাচল ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার কারণে তা সফল হয়নি। ২০০৯ সালেও পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাই নিয়মিত বাস চলাচল, পর্যাপ্ত বাস, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নারী যাত্রীরা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রুট ও প্রধান স্টপেজ

  • নতুন বাজার থেকে মতিঝিল: নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল।
  • মিরপুর থেকে মতিঝিল: মিরপুর ১২, মিরপুর ১০, মিরপুর ১, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল।
  • মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল: মোহাম্মদপুর, শংকর, ঝিগাতলা, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল, কমলাপুর।
  • আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল: আবদুল্লাহপুর, আজমপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল।
  • গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর: গাজীপুর শিববাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, আবদুল্লাহপুর, আজমপুর, বিমানবন্দর।
  • নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা: চাষাঢ়া, শিবুমার্কেট, সাইনবোর্ড, শনির আখড়া, টিকাটুলি, গুলিস্তান, মতিঝিল।
  • চট্টগ্রাম: কালুরঘাট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা।
  • বগুড়া: শেরপুর, বনানী, সাতমাথা, মহিলা কলেজ, মাটিডালি, মহাস্থান বাজার, মোকামতলা।