যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ ওকেফেনোকি জলাভূমি এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৬ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যুক্ত হয়েছে ওকেফেনোকি ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজ। প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত এই জলাভূমি বন্যপ্রাণী, জলাভূমি, সাইপ্রেস বন ও বিরল উদ্ভিদের অনন্য সমন্বয়ের জন্য পরিচিত।
ওকেফেনোকির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাসিন্দাদের একটি আমেরিকান অ্যালিগেটর। জলাভূমিতে আনুমানিক ১৫ হাজার অ্যালিগেটর রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সাপ, স্তন্যপায়ী ও উভচর প্রাণীরও দেখা মেলে।
ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, ওকেফেনোকি অঞ্চলে অন্তত ৮৫৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৩৮ প্রজাতির পাখি এবং ৯০ প্রজাতির সরীসৃপ ও উভচর রয়েছে। জলাভূমিটি বিশ্বের উপক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নিম্নভূমির মিঠাপানির পিটভূমি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটকদের জন্য ওকেফেনোকির বড় আকর্ষণ নৌভ্রমণ। ক্যানো বা কায়াক নিয়ে জলপথে এগোলে কাছ থেকে দেখা যায় কালচে জল, জলজ উদ্ভিদ, সাইপ্রেস বন এবং নানা বন্যপ্রাণী। সংরক্ষিত এলাকায় ১২০ মাইলেরও বেশি নৌপথ রয়েছে।
পায়ে হেঁটে জলাভূমি দেখার জন্য জনপ্রিয় চেসার আইল্যান্ড বোর্ডওয়াক। প্রায় ১ দশমিক ৫ মাইল যাওয়া-আসার এই পথ সাইপ্রেস বন, জলাভূমি ও খোলা প্রান্তরের মধ্য দিয়ে গিয়ে ৪০ ফুট উঁচু আউলস রুস্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে পৌঁছেছে। সেখান থেকে জলাভূমির বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
তবে ভ্রমণের আগে স্থানীয় পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও পানির স্তর কমে যাওয়ায় কয়েকটি জলপথ ও নৌভ্রমণস্থলে প্রবেশে প্রভাব পড়ছে। বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাও জরুরি।
ওকেফেনোকি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবেও স্বীকৃত। ১৯৭১ সালের রামসার কনভেনশনের আওতায় এটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই তুলনামূলক কম পরিচিত প্রাকৃতিক গন্তব্যের আন্তর্জাতিক পর্যটন আকর্ষণ আরও বাড়তে পারে।
অবস্থান: দক্ষিণ-পূর্ব জর্জিয়া ও উত্তর-পূর্ব ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
আয়তন: প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার একর
অ্যালিগেটর: আনুমানিক ১৫ হাজার
বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তি: ২০২৬
জনপ্রিয় কার্যক্রম: নৌভ্রমণ, পাখি দেখা, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ ও হাঁটা
বিশেষ আকর্ষণ: চেসার আইল্যান্ড বোর্ডওয়াক ও আউলস রুস্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার