নয়েজ-ফ্রি নেশনস ইনডেক্স অনুযায়ী, ইউরোপের সবচেয়ে নীরব দেশ এস্তোনিয়া। তবে বৈশ্বিক তালিকায় দেশটির অবস্থান অনেক নিচে—৩৪তম। নতুন নয়েজ-ফ্রি নেশনস ইনডেক্স পৃথিবীর এমন দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে গিয়ে সত্যিকার অর্থেই সব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব।
ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘গোটুআফ্রিকা’ তৈরি করেছে এই সূচক। এতে জনসংখ্যার ঘনত্ব, পর্যটকের ঘনত্ব, গ্রামীণ এলাকার পরিমাণ, সংরক্ষিত ভূমির পরিমাণ, মোটরযানের ঘনত্ব, বিমানবন্দরের ঘনত্ব এবং রেললাইনের ঘনত্বসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
এসব সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশকে ১০০ নম্বরের মধ্যে স্কোর দেওয়া হয়েছে। পরে সব সূচক মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দেশগুলোর সামগ্রিক নীরবতার স্কোর।
পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব দেশগুলো
তালিকায় প্রথম হয়েছে ভুটান। দেশটির বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা এর অন্যতম কারণ। সেখানে ৩৯ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে রয়েছে বনঘেরা পাহাড়, ধাপাকৃতির উপত্যকা ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চল।
‘থান্ডার ড্রাগনের দেশ’ নামে পরিচিত ভুটান টেকসই উন্নয়ন ফি নেওয়ার মাধ্যমে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ কারণেই দেশটি ভ্রমণের জন্য বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল গন্তব্য।
তালিকায় আধিপত্য রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোর। শীর্ষ ২৫ দেশের অর্ধেকেরও বেশি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। এমনকি দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানও দখল করেছে আফ্রিকার দেশগুলো।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নামিবিয়া। দেশটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষের সংখ্যা মাত্র ৩ দশমিক ৮৩ জন। এখানে রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম মরুভূমি নামিব। প্রতি বর্গকিলোমিটারে পর্যটকের সংখ্যাও মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭।
তৃতীয় হয়েছে বতসোয়ানা। ভ্রমণ সংস্থাটির মতে, দেশটির ‘কম পর্যটক, বেশি মূল্য’ বা লো-ভলিউম, হাই-ভ্যালু পর্যটন কৌশলও এর নীরবতা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
শীর্ষ পাঁচের বাকি দুটি দেশ জাম্বিয়া ও গ্যাবন। জাম্বিয়ায় বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ অনুপাতে সংরক্ষিত ভূমি রয়েছে। অন্যদিকে গ্যাবন পরিচিত তার অক্ষত ও প্রাকৃতিক রেইনফরেস্টের জন্য।
ইউরোপের কোনো দেশই শীর্ষ ২৫-এ জায়গা করতে পারেনি। ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা এস্তোনিয়া বিশ্ব তালিকায় ৩৪তম। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, ৩৯তম এবং সুইডেন, ৪০তম।
এর কারণ হিসেবে ইউরোপে তুলনামূলক ঘন জনবসতি, বেশি পর্যটকের আগমন এবং বিস্তৃত অবকাঠামো নেটওয়ার্ককে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে নীরব ১০ দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা ভুটানের স্কোর ৮৯.৪৪। এরপর আছে নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জাম্বিয়া, গ্যাবন, ভেনেজুয়েলা, চাদ, মধ্য আফ্রিকান, প্রজাতন্ত্র, মঙ্গোলিয়া, বলিভিয়া।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ দেশের তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্য।
তালিকায় সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ দেশ সিঙ্গাপুর। দ্বীপরাষ্ট্রটির মোট আয়তনের মাত্র ৩০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকা। আর প্রতি বর্গকিলোমিটারে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার ৬০৯ জন।
কিছুটা বিস্ময়করভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। রিসোর্ট দ্বীপগুলোতে শান্ত পরিবেশ পাওয়া গেলেও দেশটির রাজধানী মালে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে বার্বাডোস। গোটুআফ্রিকার মতে, ছোট আয়তনের এই দেশে দুটি বিমানবন্দর রয়েছে। পাশাপাশি ক্রুজ জাহাজের চলাচল থেকেও প্রায়ই শব্দ তৈরি হয়।
কাতার ও আর লেবানন আছে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে।