ভ্রমণ মানেই একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা, ব্যস্ত সূচি আর দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে হোটেলে ফেরা, এমন ধারণা বদলাচ্ছে। গত দুই-তিন বছরে পর্যটনে গুরুত্ব পাচ্ছে বিশ্রাম ও ভালো ঘুম। ‘স্লিপ ট্যুরিজম’ বা ঘুমকেন্দ্রিক পর্যটনে ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্যই হয়ে উঠছে শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেওয়া।
স্লিপ ট্যুরিজম কী?
স্লিপ ট্যুরিজম এমন এক ধরনের ভ্রমণ, যেখানে ভালো ঘুম ও বিশ্রামই প্রধান আকর্ষণ। দর্শনীয় স্থান দেখার বদলে কেউ বেছে নিচ্ছেন ঘুমকেন্দ্রিক বিশেষ অবকাশযাপন, আবার কেউ যাচ্ছেন এমন হোটেল বা রিট্রিটে, যেখানে স্পা, ধ্যান, প্রশান্তিমূলক পরিবেশ ও ঘুমের অভ্যাস উন্নত করার নানা আয়োজন থাকে।
২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনের বরাতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে স্লিপ ট্যুরিজমের বাজার ৬৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এতে আরও ৪০০ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে। এই হিসাব এইচটিএফ মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?
ব্রিটিশ ঘুম ও স্বপ্নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ চার্লি মর্লের মতে, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে খাবার ও শরীরের সুস্থতার দিকে নজর দিয়েছে। এখন সুস্থতার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে ঘুম।
মর্লে মেক্সিকোর তুলুমের নোমাদে হোটেল এবং লন্ডনের কিম্পটন ফিটজরয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘুম ও স্বপ্নকেন্দ্রিক আয়োজনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, কাজ ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে কিছুদিন দূরে গিয়ে ভালোভাবে ঘুমানোও এখন অনেকের কাছে ছুটির গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে ঘুমের ভ্রমণে
স্লিপ ট্যুরিজমে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। মর্লের ‘রুম টু ড্রিম’ আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল বাস্তবতা, নির্দেশিত ধ্যান ও বিশেষ চায়ের মাধ্যমে অতিথিদের ঘুম ও স্বপ্নকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।
ঘুম থেকে ওঠার পর অতিথিরা স্বপ্নের বর্ণনা দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সেই স্বপ্নের ছবি তৈরি করা হয়। ভবিষ্যতে স্মার্ট বিছানা ও ঘুম পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়তে পারে।
দামি হোটেলই কি জরুরি?
স্লিপ ট্যুরিজমের মূল বিষয় বিলাসিতা নয়, বরং ঘুমের উপযোগী পরিবেশ। আরামদায়ক বিছানা, ভালো গদি ও বালিশ, নিরিবিলি ঘর, কম আলো এবং মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশ ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে।
ছুটিতে গিয়ে কয়েক দিন বেশি ঘুমালে সাময়িক ঘুমের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতে পারে। তবে তা নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ঘুমের বিকল্প নয়। ছুটিতে ঘুমের সময়সূচি অতিরিক্ত বদলে গেলে ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’ও হতে পারে।
তাই স্লিপ ট্যুরিজমের শিক্ষা শুধু ভ্রমণে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস, রাতে আলো ও পর্দার ব্যবহার কমানো এবং ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ঘুমের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।