পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সমূদ্র সৈকত কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘বক্স ক্রাব’ বা 'লজ্জাবতী কাঁকড়া।' বিপদ মুক্ত হতে মুখ ঢাকে কিংবা বিশ্রামের সময় শত্রুর আক্রমন থেকে মুখ ঢেকে রাখে এ কারণে এটির নাম লজ্জাবতী কাঁকড়া।অদ্ভুত আকৃতির এই সামুদ্রিক কাঁকড়া নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
মঙ্গলবার কলাপাড়ার মৎস্য বন্দর মহিপুরে ইলিয়াশ মাঝির মাছধরা ট্রলারের জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি নিয়ে আসেন আঁখি ফিস নামের একটি মাছের আড়তে। তবে কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না—এ নিয়ে সংশয় থাকায় জেলেরা এটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।
আঁখি ফিসের মো. আলামিন বলেন, 'অন্যান্য মাছের সাথে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। তাই এটি নিয়ে জেলেদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। বক্স ক্রাবের খোলস গোল ও বেশ চওড়া। সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় এর শরীর অনেকটা গোলাকার। খোলস উঁচু ও শক্ত এবং ওপরের অংশ গম্বুজের মতো। খোলসজুড়ে ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ রয়েছে। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়া এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।'
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, 'বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময়, কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের পাওয়া যায়। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষ সাধারণত এগুলো খায় না। তবে যেসব এলাকায় এ কাঁকড়া বেশী পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।'
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, 'শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, 'ছবিতে দেখা কাঁকড়াটি প্রাথমিকভাবে বাক্স কাঁকড়া বা Box Crab (Calappa sp.) বলে মনে হচ্ছে। এদের একটি মজার বৈশিষ্ট্যের কারণেই ‘লজ্জাবতী কাঁকড়া’ বা Shame-faced Crab বলা হয়। বিপদ অনুভব করলে বা বিশ্রামের সময় এরা অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া শরীরের সামনে এমনভাবে ভাঁজ করে রাখে যে মুখমণ্ডল প্রায় পুরোপুরি ঢেকে যায়, দেখে মনে হয় যেন লজ্জায় মুখ ঢেকে রেখেছে। এখান থেকেই ‘Shame-faced Crab’ নামটির উৎপত্তি।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় Calappa গণের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই গণের কিছু প্রজাতি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে শুধু ছবি দেখে নির্দিষ্ট প্রজাতি শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন; তাই স্থানীয়ভাবে খাওয়ার আগে সঠিক প্রজাতি শনাক্ত করা জরুরি। আমাদের উপকূলে এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ বা খাওয়ার বিষয়টি না দেখে প্রজাতি শনাক্তকরণ, কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, এর বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করা জরুরি। এগুলো আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
এ কাঁকড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া, যা সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। উপকূলে এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ নয়, প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।'