বর্ষার টানা বৃষ্টিতে নতুন রূপ পেয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ঝরনা ও ঝিরিগুলো। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানির স্রোত আর সবুজ প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের পর্যটকরা। ছুটির দিনে এই ভিড় আরও বাড়ছে। পর্যটকের আনাগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা, সুপ্তধারা, কমলদহ, সহস্রধারা-২, লাউয়ানী, বান্দরঝিরি ও মায়াবিনীসহ বিভিন্ন ঝরনা ও পাহাড়ি ট্রেইলে এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা বেশি।

বর্ষায় এসব ঝরনায় পানির প্রবাহ বাড়ায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণও বেড়ে যায়। তবে পাহাড়ি পথে চলাচলের ক্ষেত্রে বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল পথ, আকস্মিক পানির স্রোতসহ বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই স্থানীয় গাইডের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় খাবারের দোকানে ব্যবসা বেড়েছে। স্থানীয় তরুণদের অনেকে গাইড হিসেবে কাজ করে আয় করছেন। পাশাপাশি ফল বিক্রেতা, সিএনজি ও স্থানীয় পরিবহনের চালক এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রেতারাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষার কয়েক মাসে পর্যটকদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডের স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তবে পর্যটকের এই বাড়তি চাপ নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। অসচেতনভাবে ফেলে রাখা প্লাস্টিক, পলিথিন, একবার ব্যবহারযোগ্য গ্লাস ও বোতল পাহাড়ি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পর্যটন বাড়লেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত না হলে দীর্ঘমেয়াদে ঝরনা ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য ঝরনা এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে।

পর্যটনকে টেকসই করতে পাহাড়ি ট্রেইলে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত গাইডলাইন, স্থানীয় গাইডের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সীতাকুণ্ডের ঝরনাভিত্তিক পর্যটন যেমন আরও জনপ্রিয় হবে, তেমনি প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।