যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও হাজারো মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ভিসাধারীদের ওপর নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর লক্ষ্য হলো ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং দেশটির নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা।
হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধও ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের কথাও জানিয়েছে দপ্তর।
উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে জড়িত বাবা-মায়েদের। অভিযোগ, তাঁরা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যাতে সন্তান দেশটির নাগরিকত্ব পায়।
এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশকারী কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। কার্ক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে এক অনুষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সেটিই তখন রেকর্ড ছিল। নতুন সংখ্যা সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ভিসা বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীদের যাচাইও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং আবেদনকারীদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা এর সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অভিবাসীদের গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়। জাতীয় নিরাপত্তা বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে।