বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মহাস্থানগড় সংরক্ষণে ২০১২ সালে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সরকার আপিলের অনুমতি চাওয়ার পাশাপাশি স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। তবে স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা এর বিরোধিতা করেন। পরে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ২০২৩ সালের ১৭ মে এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বিশ্ব ঐতিহ্যের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, মহাস্থানগড়ে অবৈধ খনন ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে জনস্বার্থে রিট করে এইচআরপিবি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্ট প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
রায়ে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণে মূল স্থাপনা থেকে প্রায় ২০০ ফুট দূরে জমি অধিগ্রহণ করে নতুন মসজিদ নির্মাণ এবং মহাসড়কের ওপর ফুটব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ নির্মাণ ও অগ্রাসন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
২০২০ সালে একই মামলার ধারাবাহিকতায় হাই কোর্ট সংরক্ষিত এলাকায় খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদ ও মাজারে নারীদের জন্য বিশ্রামাগার ও অজুখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ কাজে ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ১৭ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় কাজ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়।
এরপর ২ জুলাই সরকার ২০১২ সালের রায় ও ২০২০ সালের আদেশ সংশোধন ও স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করে।
আবেদনে বলা হয়, শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ারের মাজার ও মসজিদে জুমার নামাজ ও ওরস উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। পর্যাপ্ত শৌচাগার, অজুখানা ও বিশ্রামাগারের অভাবে তাদের দুর্ভোগ হয়।
সরকারের আবেদনে প্রত্নস্থলের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির জন্য আগের রায় সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশে আপাতত মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে।