নাটোরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি বলেছেন, নাটোরের ঐতিহ্যকে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে পর্যটন বিভাগ কাজ শুরু করবে।

শনিবার সকালে নাটোরের ঐতিহাসিক রাণী ভবানী রাজবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নাটোরের পাশাপাশি দেশের সম্ভাবনাময় প্রতিটি স্থানের পর্যটনকে জনপ্রিয় করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটন স্পটকে পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। শুধু দর্শনীয় স্থান উন্নয়ন নয়, পর্যটকদের জন্য আবাসন, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাও এসব পর্যটন হাবের আওতায় রাখা হবে।

পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দর্শনীয় স্থানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের থাকা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটনভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আফরোজা খানম নাটোরের পর্যটন সম্ভাবনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে দুই দিনের সফরে শুক্রবার নাটোরে আসেন। সফরের প্রথম দিনে তিনি নাটোরের উত্তরা গণভবন এবং মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত হালতি বিল পরিদর্শন করেন।

এরপর শনিবার সকালে তিনি রাণী ভবানী রাজবাড়ি পরিদর্শন করেন। নাটোরের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক পর্যটন আকর্ষণগুলোকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই সফর বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

রাণী ভবানী রাজবাড়ি পরিদর্শনের সময় নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ এবং নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত উপস্থিত ছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • চিহ্নিত পর্যটন স্পট: ১ হাজার ৪৯৮টি
  • প্রস্তাবিত উদ্যোগ: পর্যায়ক্রমে পর্যটন হাব প্রতিষ্ঠা
  • পর্যটন সুবিধা: আবাসন, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা
  • নাটোর সফরে পরিদর্শন: উত্তরা গণভবন, হালতি বিল ও রাণী ভবানী রাজবাড়ি