ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বুধবার দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশা করেছিলেন, এই বৃষ্টিতে কয়েক দিনের অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন বদলায়নি। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বৃষ্টি হলেও আপাতত গরম কমার সম্ভাবনা কম। বরং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে একইসঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। মঙ্গলবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভ্যাপসা গরমের প্রধান কারণ বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা। বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ফলে শরীর থেকে নির্গত ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ঘাম বাষ্পীভূত না হওয়ায় শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না এবং গরমের অনুভূতি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কম থাকলেও অস্বস্তি বাড়ে। বর্তমানে ঢাকায় এই ব্যবধান প্রায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে রাতেও তেমন শীতলতা তৈরি হচ্ছে না, যা ভ্যাপসা গরম দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে

দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে

ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ

বৃষ্টির পরও ঘাম না শুকানোয় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কম থাকায় অস্বস্তি বাড়ছে