প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো চলতি বছরের শেষ দিকে এমন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা আধুনিক পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে নজিরবিহীন। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের পূর্বাভাস বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টি, খরা, ঝড় ও তাপমাত্রার ধরনে বড় পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে।
মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কেইফ বলেছেন, “আমি আমাদের পূর্বাভাসে এল নিনোর সংকেত কখনো এত তীব্র দেখিনি।” তাঁর মতে, পরিস্থিতি সত্যিই পূর্বাভাস অনুযায়ী এগোলে এটি উনিশ শতকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয় এবং প্রায় নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এ সময় বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে উষ্ণ পানি পূর্বদিকে সরে আসে, যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে দিতে পারে।
জুনে এল নিনো আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এর শক্তি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের জুলাইয়ের হিসাবে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ৮১ শতাংশ। এ ধরনের ঘটনা ১৯৫০ সালের পরের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর তালিকায় থাকতে পারে।
মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। বিপরীতে দক্ষিণ আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।
যুক্তরাজ্য ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। শরৎ ও শীতের শুরুতে যুক্তরাজ্যে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। শীতের শেষ দিকে তুলনামূলক ঠান্ডা ও স্থির আবহাওয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে।
এল নিনোর প্রভাব পর্যটনেও গুরুত্বপূর্ণ। অতিবৃষ্টি, বন্যা, দাবানল, খরা ও ঝড়ের কারণে জনপ্রিয় গন্তব্যে যাতায়াত, উড়োজাহাজ চলাচল, সমুদ্রভ্রমণ ও পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা জরুরি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা বৈশ্বিক তাপমাত্রা। মেট অফিস বলছে, এল নিনোর উষ্ণতা এবং মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে কাজ করায় ২০২৭ সাল ২০২৪ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে বিশ্বের উষ্ণতম বছর হতে পারে।