ফুটবলের দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ জয় কিংবা নীল-সাদা জার্সির উন্মাদনা দেশটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। তবে ফুটবলের বাইরেও আর্জেন্টিনা প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য বিস্ময়ের ভাণ্ডার। জলপ্রপাত, হিমবাহ, পাহাড়, হ্রদ ও সমুদ্র উপকূলের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে।
ইগাজু জলপ্রপাত
আর্জেন্টিনার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইগাজু জলপ্রপাত বিশ্বের বৃহত্তম ও দর্শনীয় জলপ্রপাতগুলোর একটি। দূর থেকেই এর গর্জন শোনা যায়। অসংখ্য জলধারা একসঙ্গে গভীর খাদে আছড়ে পড়ে তৈরি করে অবিশ্বাস্য দৃশ্য। চারপাশের ঘন অরণ্য ও জলকণার মধ্যে ভেসে ওঠা রংধনু ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
বারিলোচে
আন্দিজ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সান কার্লোস দে বারিলোচে শহরকে অনেকেই দক্ষিণ আমেরিকার সুইজারল্যান্ড বলে থাকেন। নাহুয়েল হুয়াপি হ্রদের তীরে গড়ে ওঠা এই শহর বরফঢাকা পাহাড়, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইউরোপীয় ধাঁচের স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি বারিলোচে তার বিখ্যাত চকলেট শিল্পের জন্যও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
এল বলসন
বারিলোচে থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত শান্ত ও সবুজ উপত্যকা এল বলসন। সত্তরের দশকের হিপি সংস্কৃতির প্রভাব এখনো এখানে দৃশ্যমান। পাহাড়ঘেরা এই জনপদে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের বাজার, স্থানীয় খাদ্যপণ্য ও অর্গানিক কৃষিপণ্যের সমাহার। নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য এটি আদর্শ গন্তব্য।
পুয়ের্তো মাদ্রিন
আটলান্টিক উপকূলের শহর পুয়ের্তো মাদ্রিন সামুদ্রিক বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বখ্যাত। বিশেষ করে দক্ষিণ রাইট তিমি দেখার অন্যতম সেরা স্থান এটি। নির্দিষ্ট মৌসুমে উপকূলের কাছেই তিমির বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি পেঙ্গুইন, সি-লায়নসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা মিলতেও পারে।
এল চাল্টেন
পাতাগোনিয়া অঞ্চলের ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ এল চাল্টেনকে আর্জেন্টিনার ট্রেকিং রাজধানী বলা হয়। এখানকার প্রধান আকর্ষণ মাউন্ট ফিটজ রয়। বিভিন্ন ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকের সামনে উন্মোচিত হয় পাহাড়, হিমবাহ ও হ্রদের অপূর্ব দৃশ্য। বিশেষ করে লগুনা দে লস ত্রেস হ্রদ থেকে ফিটজ রয়ের দৃশ্য অনেকের কাছেই জীবনের অন্যতম সেরা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
পেরিতো মরেনো হিমবাহ
ভ্রমণের শেষ গন্তব্য হতে পারে পেরিতো মরেনো হিমবাহ। এটি বিশ্বের অল্প কয়েকটি সচল হিমবাহের অন্যতম। বিশাল নীলাভ-সাদা বরফের বিস্তার এবং মাঝে মাঝে বরফের বিশাল খণ্ড ভেঙে হ্রদে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষভাবে নির্মিত ওয়াকওয়ে থেকে খুব কাছ থেকে এই প্রাকৃতিক বিস্ময় উপভোগ করা যায়।
ইগাজুর গর্জন, বারিলোচের পাহাড়ি সৌন্দর্য, এল বলসনের শান্ত পরিবেশ, পুয়ের্তো মাদ্রিনের সামুদ্রিক জীবন, এল চাল্টেনের ট্রেকিং পথ এবং পেরিতো মরেনোর হিমবাহ মিলিয়ে আর্জেন্টিনা যেন প্রকৃতির এক অনন্য প্রদর্শনী। ফুটবলের জন্য পরিচিত এই দেশ ভ্রমণপ্রেমীদের জন্যও সমানভাবে রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় এক গন্তব্য।