দেশীয় পর্যটন, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার বাইরে আধুনিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রিক একটি ‘হাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে প্রাথমিকভাবে ৮০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পর্যটকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাজারকে শক্তিশালী করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পর্যটকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। এই তহবিল থেকে পর্যটন, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিনোদনের পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় পর্যটন ও বিনোদনকে একত্রে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে গড়ে তোলা হবে এমন একটি কেন্দ্র, যেখানে থিয়েটার, স্ট্যান্ডআপ কমেডি, শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, ডিজাইনার শপ, ফাইন ডাইনিংসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। একজন দর্শনার্থী বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে সময় কাটাতে পারবেন।
সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করা না গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থিয়েটার, চলচ্চিত্র, সংগীত ও সংস্কৃতি সফলভাবে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বড় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে।
দেশীয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পল্লীগীতি, লালনগীতি ও অন্যান্য সংগীতধারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সম্পদকে এখনও কাঙ্ক্ষিতভাবে অর্থনৈতিক মূল্যচক্রের সঙ্গে যুক্ত করা যায়নি।
ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ প্রত্নস্থলসহ নানা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু এসব স্থানের সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে অতীতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকারের নতুন পরিকল্পনায় এসব স্থানকে উন্নয়নের আওতায় আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, সৃজনশীল অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বিনোদন খাতকে সমন্বিতভাবে বিকশিত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাড়বে এবং দেশের সাংস্কৃতিক সম্পদ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।