বর্ষার ধারাবাহিক বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ি ঝরনাগুলো ফিরে পেয়েছে তাদের চিরচেনা রূপ। বছরের বেশির ভাগ সময় পানির প্রবাহ কম থাকলেও এখন খৈয়াছড়া, রূপসী, নাপিত্তাছড়া ও অন্যান্য ঝরনায় বইছে টইটম্বুর জলধারা। ফলে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক ভিড় করছেন এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠিকানায়।

দেশজুড়ে ‘ঝরনার রানি’ হিসেবে পরিচিত মিরসরাইয়ে রয়েছে রূপসী, হরিনাকুণ্ড, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়ি, বোয়ালিয়া, খৈয়াছড়া ঝরনা এবং জনপ্রিয় মেলখুম ট্রেইল। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এসব পর্যটনকেন্দ্র নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

সম্প্রতি রূপসী, নাপিত্তাছড়া ও খৈয়াছড়া ঝরনার প্রবেশপথে দেখা গেছে বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক পর্যটক আবার দূরপাল্লার বাসে এসে স্থানীয় পরিবহনে ঝরনাগুলোর উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ভ্রমণসামগ্রী ও সেবার চাহিদাও বেড়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও বাওয়াছড়া ঝরনা। আকৃতি, উচ্চতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া এবং রূপসী ঝরনাই সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণ করে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় ঝরনাগুলোর ইজারা পেয়েছে থ্রি-বি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং পর্যটকদের গাইড সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রাকিবুল হাসান বলেন, রূপসী ঝরনায় যাওয়ার পথে সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের নোমান আব্দুল্লাহ জানান, নাপিত্তাছড়ার পাথুরে ঝিরিপথ ও স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য তার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তুলেছে।

বারৈয়ারঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বৈশাখ থেকেই ঝরনাগুলোতে পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটি এবং বর্ষার কারণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন বিভাগ ও ইজারাদার যৌথভাবে কাজ করছে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে শিগগিরই ট্যুরিস্ট গাইড, স্থানীয় বাসিন্দা, সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।