ঢাকার কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই যে এমন রঙিন আর শান্ত এক গ্রাম অপেক্ষা করছে, তা না গেলে বিশ্বাস করা কঠিন। সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রাম এখন অল্প সময়ের ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে দারুণ এক ডে ট্রিপ গন্তব্য। সকালে গিয়ে দুপুর বা বিকেলের মধ্যেই ঘুরে ফেরা যায়। প্রকৃতি, ফুল আর গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়ায় এই জায়গা মন ভালো করে দেয় সহজেই।
সহকর্মীর মুখে গোলাপ গ্রামের কথা আগেও শুনেছি। এবার ঠিক হলো সরাসরি দেখা হবে। শুক্রবার সকালে ঢাকার গুলিস্তান থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে সহকর্মীর সঙ্গে দেখা। সেখান থেকে বিরুলিয়ার পথে তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত যান। খানাখন্দে ভরা রাস্তা হলেও দুপাশের দৃশ্য সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। সবুজ মাঠ, খাল আর নরম আলোয় ভেজা গ্রাম যেন ঢাকার পাশেই অন্য এক জগৎ।
কিছু দূর যেতেই নাকে এল সোঁদা মাটির গন্ধ। চোখে পড়ল লাল গোলাপে ভরা বিস্তীর্ণ বাগান। যত দূর চোখ যায়, শুধু গোলাপ আর গোলাপ। মাঝে মাঝে সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস আর জারবেরার ঝলক। সূর্যের আলোয় টকটকে লাল ফুলগুলো যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ভ্রমণসঙ্গী স্ত্রী এই দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি। সরু আঁকাবাঁকা গ্রামীণ পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একের পর এক বাগান চোখে পড়ে।
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা বাগানে নামতে শুরু করেন। গাছের সারি ধরে হাতে হাতে গোলাপ তোলেন তারা। মুঠোভর্তি ফুলের দৃশ্য দেখতেই ভালো লাগে। স্থানীয় সহকর্মী মনির জানালেন, বিরুলিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৯০ সালের দিকে। কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে শুরু হলেও এখন পুরো ইউনিয়নজুড়েই গোলাপ চাষ হচ্ছে। সাদুল্যাপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া, রানী পাড়া গ্রামে অনেক মানুষ মূল পেশা বদলে ফুল চাষে যুক্ত হয়েছেন। অল্প সময়ে ভালো মুনাফা হওয়ায় অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে।
হেঁটে হেঁটে পৌঁছালাম গোলাপের হাট এলাকায়। সাধারণত সন্ধ্যার দিকে এখানে জমে ওঠে ফুলের বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে গোলাপ কিনে নিয়ে যান। তখনো সন্ধ্যা বাকি, তবু বাজারে ফুল আসতে শুরু করেছে। হাট থেকে এক আঁটি লাল গোলাপ কিনে স্ত্রীকে উপহার দিলাম। ছোট্ট এই মুহূর্তটাই যেন পুরো ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে থাকল।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে উত্তরা থার্ড ফেজ, মিরপুর বেড়িবাঁধ কিংবা গাবতলী হয়ে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর এলাকায় যাওয়া যায়। নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ার গাড়িতে যাওয়া সুবিধাজনক। সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস বা লেগুনায় গেলেও পৌঁছানো সম্ভব, তবে কয়েকবার যানবাহন বদলাতে হতে পারে।