খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত গলাচিপা খুম ধীরে ধীরে অভিযাত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ঝিরিপথ, সেগুনবন, খাড়া পাহাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ সরু ট্রেইল পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় এই খুমে। পুরো যাত্রাপথজুড়ে যেমন রয়েছে চ্যালেঞ্জ, তেমনি আছে প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে এই অভিযানের সূচনা। সেখান থেকে পাহাড়ি গ্রাম ও বনপথ পেরিয়ে ট্রেকিং করে এগোতে হয় গন্তব্যের দিকে। যামিনীপাড়া গ্রাম হয়ে শুরু হয় মূল যাত্রা।
পাহাড়ি সকালের পরিবেশ ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় ভিন্ন এক আবহে। গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো, পাখির ডাক ও নিরিবিলি পরিবেশ পুরো পথকে করে তোলে উপভোগ্য।
টিপরাপল্লির বড় পাড়া পর্যন্ত ইটের সলিংপথ থাকলেও এরপর শুরু হয় আসল ট্রেকিং। সেগুনবনের ভেতর দিয়ে ঝরাপাতায় ঢাকা পথ, মাঝেমধ্যে ঝিরির ঠান্ডা পানি আর উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে এগোতে হয়।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো যায় বড় খুম ঝরনায়। খরার সময়েও এই ঝরনায় পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। ঝরনার নিচে তৈরি হওয়া গভীর জলাধারের কারণে স্থানীয়ভাবে একে ‘খুম’ বলা হয়। পাহাড়ি ভাষায় খুম শব্দের অর্থ গভীর গর্ত বা প্রাকৃতিক জলাধার।
বড় খুম থেকে আরও এগিয়ে যেতে হয় গলাচিপা খুমের দিকে। মাঝপথে ঝিরির ধারে অস্থায়ীভাবে রান্না ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা যায়। এরপর শুরু হয় আরও নির্জন ও দুর্গম পথ।
এই অংশে মানুষের উপস্থিতি খুব কম। চারপাশে নীরব প্রকৃতি, স্বচ্ছ ঝিরির পানি এবং পাহাড়ি পরিবেশ ভ্রমণকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
অবশেষে গলাচিপা খুমে পৌঁছালে চোখে পড়ে এর ব্যতিক্রমধর্মী গঠন। ওপর থেকে দেখতে এটি অনেকটা ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর গভীরতা ও অবস্থান একে করে তুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
খুমের চারপাশের পথ অত্যন্ত সরু ও বিপজ্জনক। সামান্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কোথাও শক্তভাবে ধরার মতো শিকড় বা নিরাপদ পথ নেই। তাই এই এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
দুর্গমতা ও ঝুঁকি থাকলেও এমন পরিবেশই পাহাড়প্রেমীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। গলাচিপা খুম তাই অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যা দ্রুত নেমে আসে। তাই নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় দিনের আলোতেই ফিরে আসা প্রয়োজন।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ডাকবাংলো পর্যন্ত যেতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় গাইড নিয়ে টিপরাপল্লির বড় পাড়া হয়ে ট্রেকিং শুরু করতে হয়।
সঙ্গে যা রাখবেন
শুকনা খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ট্রেকিং উপযোগী জুতা, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী রাখা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
গলাচিপা খুমের পথ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ছাড়া যাওয়া উচিত নয়। বর্ষাকালে পথ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় গ্রাম বা তাঁবুতে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।