বর্ষার ভরা মৌসুমে দিগন্তজোড়া জলরাশি, দূরে মেঘালয়ের পাহাড় আর মাঝখানে হিজল-করচের সারি। প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্যের জন্যই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। বছরের বিভিন্ন সময়ে হাওরের রূপ বদলালেও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টিই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওর যেন এক বিশাল জলরাজ্য। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। ছোট ছোট গ্রামগুলো তখন দূর থেকে ভাসমান দ্বীপের মতো মনে হয়। হাওরের বুক চিরে নৌকা চলাচল, জ্যোৎস্না রাতে পানির ওপর আলোর প্রতিফলন এবং সন্ধ্যার নরম বাতাস পর্যটকদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়।
শুধু বর্ষাই নয়, শীতকালেও টাঙ্গুয়ার হাওরের আলাদা আবেদন রয়েছে। এ সময় হাওরে দেখা মেলে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির অতিথি পাখির। হাওরের আশপাশে নলখাগড়া, ঘাস আর জলজ উদ্ভিদের বিস্তৃত পরিবেশ পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। বর্ষায় হাওরের পানির স্বচ্ছতা আর মেঘালয় পাহাড়ের দৃশ্য মিলিয়ে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর।
টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যাদুকাটা ও পাতলাই নদী। স্বচ্ছ পানির এই নদীগুলোও পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। যাদুকাটা নদী ধরে যাওয়া যায় সীমান্তঘেঁষা বারেকের টিলায়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে নদীপাড়ের শিমুল বাগান লাল ফুলে ভরে ওঠে।
বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের জন্য ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা ও আধুনিক হাউজ বোট পাওয়া যায়। অধিকাংশ হাউজ বোটে থাকা, খাওয়া ও ঘোরার ব্যবস্থা থাকে। দলবদ্ধভাবে গেলে খরচও তুলনামূলক কম হয়। এছাড়া কম সময়ে ঘুরতে চাইলে স্পিড বোটও ব্যবহার করা যায়।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। সেখান থেকে লেগুনা, সিএনজি বা মোটরবাইকে তাহিরপুর পৌঁছে নৌকায় টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়া সম্ভব।
ভ্রমণে গেলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় হাওরের পানিতে প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উচ্চ শব্দ ও অতিরিক্ত আলোর ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।