গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজার শহরজুড়ে ফুটে উঠেছে কৃষ্ণচূড়া। লাল-কমলা রঙের এই দৃষ্টিনন্দন ফুলে বদলে গেছে পুরো শহরের চেহারা। সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে এখন চোখে পড়ছে আগুনরঙা ফুলের সারি, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষ্ণচূড়ার এই রূপ বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক, পৌরসভা প্রাঙ্গণ, জইল্লার দোকান মোড় এবং লাবণী পয়েন্ট এলাকায় সারি সারি গাছে ফুটেছে ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া উজ্জ্বল লাল ফুল পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে সহজেই।

কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এর উৎপত্তি মাদাগাস্কার হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে এটি গুলমোহর নামেও পরিচিত। গ্রীষ্মের শুরুতেই গাছটি ফুলে ভরে ওঠে, যা প্রকৃতিতে ঋতুর স্পষ্ট বার্তা দেয়।

উদ্ভিদবিদদের মতে, এই ফুলের উজ্জ্বল রঙের পেছনে রয়েছে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড এবং অ্যান্থোসায়ানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। সাধারণত লাল রঙের ফুলই বেশি দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হলুদ এবং বিরলভাবে সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়াও ফুটতে দেখা যায়।

গন্ধ না থাকলেও কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য মানুষের মনে আলাদা ছাপ ফেলে। পাঁচটি কোমল পাপড়ি এবং মাঝখানে সুস্পষ্ট পুংকেশর ফুলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ডালের পর ডালজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুলের গুচ্ছ দূর থেকে দেখলে যেন আগুনের শিখার মতো মনে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্ম এলেই কৃষ্ণচূড়া শহরকে নতুন রূপ দেয়। অনেকেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করেন, আবার কেউ কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তোলেন।

প্রকৃতির এই ঋতুভিত্তিক রূপান্তর গ্রীষ্মের আগমনের এক নিঃশব্দ ঘোষণা। কক্সবাজারে কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা ফুল যেন জানিয়ে দিচ্ছে, ঋতু বদলের সময় এসে গেছে।