শহরের ধুলো–ধোঁয়া আর ব্যস্ততার বাইরে একদিনের জন্য যদি প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চান, তাহলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওর হতে পারে আদর্শ ঠিকানা। শীত শেষে পানি নেমে গেলে বিশাল হাওরজুড়ে ফুটে ওঠে গোলাপি রঙের হুড়হুড়ে ফুল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এই ফুলের মাঠ দেখে মনে হয়, যেন প্রকৃতি নিজেই সাজিয়ে রেখেছে এক রঙিন স্বপ্নরাজ্য।
হাওর মানেই সাধারণত জলরাশি আর নৌকার দৃশ্য। কিন্তু জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বড় হাওর ধারণ করে ভিন্ন রূপ। বিস্তীর্ণ জমিতে গোলাপি, সাদা ও হালকা বেগুনি ফুলে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের সারি দূর থেকে তাকালে মনে হয়, কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা বিশাল ক্যানভাস।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ফুলের নাম হুড়হুড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cleome hassleriana, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Spider Flower। ফুলের লম্বা পুংকেশর দেখতে অনেকটা মাকড়সার পায়ের মতো। গাছ সাধারণত ৪–৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের পরিবেশে এটি স্বাভাবিকভাবেই জন্মায়।
বর্ষাকালে বড় হাওরের পুরো এলাকা পানির নিচে থাকে। তখন হুড়হুড়ে ফুলের বীজ পানির নিচেই সুপ্ত অবস্থায় থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে উর্বর মাটি, আর্দ্রতা ও পর্যাপ্ত সূর্যের আলো মিলে ফুল ফোটার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফুল দেখা যায়, তবে ফেব্রুয়ারিই সেরা সময়।
বড় হাওরে যেতে হলে প্রথমে আসতে হবে কিশোরগঞ্জ শহরে। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে সহজেই কিশোরগঞ্জ পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে সিএনজিতে করিমগঞ্জ হয়ে জয়কা বড় হাওর এলাকায় যেতে হবে। শেষ অংশে কিছুটা কাঁচা রাস্তা ও হাঁটাপথ রয়েছে।
ভ্রমণে গেলে আশপাশে বালিখলা ঘাট, ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের অল-ওয়েদার সড়ক, ছাতিরচরের করচবন ও জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ঘুরে দেখা যায়। খাবারের তালিকায় অবশ্যই রাখুন হাওরের তাজা মাছের ঝোল। থাকার জন্য কিশোরগঞ্জ শহরের হোটেলগুলোই ভালো বিকল্প।
ফেব্রুয়ারি মাসে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় বড় হাওরে গেলে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে ফুল ছেঁড়া বা পরিবেশ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই দায়িত্বশীল ভ্রমণ।