জ্বালানি সংকটের তীব্র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের পর্যটন খাতে। আগাম বুকিং কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে পর্যটক পরিবহন ব্যবস্থা, ফলে পুরো খাতজুড়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সোমবার সকালে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে জেলার হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আসন্ন সাংগ্রাই উৎসব ও সরকারি ছুটি ঘিরে যে পর্যটক সমাগমের আশা করা হয়েছিল, তা এখন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে এসেছে।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মৌসুমের মধ্যেই ব্যবসা মারাত্মক মন্দায় পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা সদরের চারটি পেট্রোল পাম্প থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল চালকসহ পরিবহননির্ভর জীবিকায় যুক্ত হাজারো মানুষ আর্থিক চাপে পড়েছেন।
পর্যটকবাহী গাড়িচালক আক্তারুজ্জামান বাবু জানান, বান্দরবানের পর্যটন মূলত সড়ক ও নৌপথ নির্ভর। কিন্তু জ্বালানির অভাবে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে নীলগিরি, বগালেক, কেওক্রাডংয়ের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যে পর্যটক উপস্থিতি কমে গেছে।
তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যায় না। এতে নির্ধারিত সময়ে পর্যটক পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালক দূরপাল্লার রুটে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. এমরান জানান, প্রত্যাশিত বুকিং না হওয়ায় ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মী আর্থিক সংকটে পড়বেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জহীর উদ্দীন মাসুম বলেন, জেলায় প্রায় তিন হাজার চালক ও শ্রমিক পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যেখানে একটি ট্রিপে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মাত্র ১০ লিটার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দূরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত প্রায় বন্ধের পথে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অকটেন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাসান বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মজুতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন।