সবুজ মাঠ, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়, সাদা চুনাপাথরের চকচকে ক্লিফ আর ঢেউয়ের পর ঢেউ সমুদ্রের নীল জলরাশি। ইংল্যান্ড মানেই শুধু লন্ডনের ব্যস্ততা নয়, বরং এই দেশের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার পাহাড়ি উপত্যকায়, মুক্ত মুরল্যান্ডে আর উপকূলীয় পথের বাঁকে বাঁকে। যারা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে চান, তাদের জন্য ইংল্যান্ডের সেরা ৯টি হাইকিং রুট হতে পারে স্বপ্নের গন্তব্য।

ইংল্যান্ডে হাইকিং শুধু একটি শখ নয়, এটি আইনি অধিকার। কান্ট্রিসাইড অ্যান্ড রাইটস অব ওয়ে অ্যাক্টের আওতায় যেকেউ কৃষিজমি বা সংরক্ষিত এলাকায় বিনা অনুমতিতে হাঁটতে পারেন। তবে পথচারীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকা জরুরি।

ম্যাম টর, পিক ডিস্ট্রিক্ট
৮ মাইলের এই রুটটি শেফিল্ড বা ম্যানচেস্টার থেকে সরাসরি ট্রেনে এডেল স্টেশনে পৌঁছে শুরু করা যায়। ৫১৭ মিটার উচ্চতার ম্যাম টর শৃঙ্গে উঠে ক্যাসেলটন ও হোপ গ্রামের মধ্য দিয়ে লুপ করা যায় প্রায় ৫ ঘণ্টায়। ১৯৩২ সালের বিখ্যাত কিন্ডার ট্রেসপাস আন্দোলনের স্মৃতি বহনকারী কিন্ডার স্কাউটেও ঢুঁ মারা যায় এখান থেকে।

স্ক্যাফেল পাইক ও হেলভেলিন, লেক ডিস্ট্রিক্ট
ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত স্ক্যাফেল পাইক (৯৭৮ মিটার) এবং নাটকীয় স্ট্রাইডিং এজ রিজের জন্য বিখ্যাত হেলভেলিন (৯৫০ মিটার) হাইকারদের সর্বোচ্চ পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। দুটি রুটেই ৫-৭ ঘণ্টার কঠিন ট্রেকিং প্রয়োজন। আবহাওয়া পরীক্ষা করা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ, ইয়র্কশায়ার ডেলস
২৪ মাইলের এই রুটে পেন-ই-ঘেন্ট, হোয়ার্নসাইড ও ইঙ্গেলবোরো তিনটি পর্বতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওঠার চ্যালেঞ্জ নেন হাজার হাজার হাইকার। ১৯৬৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি মানুষ এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেছেন।

হ্যাড্রিয়ানস ওয়াল পাথ, নর্থামবারল্যান্ড
৮৪ মাইল দীর্ঘ এই ঐতিহাসিক পথ রোমানদের তৈরি বিখ্যাত প্রাচীর ধরে চলে। ১২২ থেকে ১২৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হ্যাড্রিয়ানস ওয়ালের পাশে রয়েছে হাউসস্টেডস ফোর্ট ও ভিন্ডোল্যান্ডা মিউজিয়ামের মতো অমূল্য রোমান ঐতিহ্য।

শ্রপশায়ার ওয়ে ও লং মাইন্ড
ওয়েলশ সীমান্তঘেঁষা শ্রপশায়ারের ২০২ মাইলের এই রুট অনেকটাই জনমানবহীন, তাই ভিড় এড়াতে চাইলে আদর্শ। বন্য পোনিদের পদচারণা আর হেদারের মৌসুমি রং এই পথকে করে তোলে অপ্রতিম।

ক্লিভল্যান্ড ওয়ে, নর্থ ইয়র্কশায়ার
১০৯ মাইলের এই পথে রয়েছে ব্র্যাম স্টোকারের ড্রাকুলা উপন্যাসে বিখ্যাত হোয়াইটবি অ্যাবির ভুতুড়ে ধ্বংসাবশেষ, স্মাগলারদের ঘাঁটি রবিন হুডস বে আর হেনরি অষ্টমের ধ্বংস করা রিভো অ্যাবি।

সাউথ ডাউনস ওয়ে
লন্ডন থেকে মাত্র এক ঘণ্টার ট্রেনে পৌঁছানো যায় এই ১০০ মাইলের রুটে। উইনচেস্টার থেকে সেভেন সিস্টার্সের বিখ্যাত সাদা ক্লিফ হয়ে ইস্টবোর্ন পর্যন্ত চক মাটির পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়।

সাউথ ওয়েস্ট কোস্ট পাথ
৬৩০ মাইলের এই দীর্ঘতম ট্রেইলটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ধরে মিনহেড থেকে পুল হারবার পর্যন্ত বিস্তৃত। পাড়ে পেরেগ্রিন ফ্যালকন, ডলফিন ও বেসকিং শার্কের দেখা মেলে।

নরফোক কোস্ট পাথ
সমুদ্রতট, বনভূমি ও নলখাগড়ার জলাভূমির ৮৪ মাইলের এই শান্তিপূর্ণ পথটি পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য আদর্শ। হানস্টান্টন থেকে হপটন-অন-সি পর্যন্ত এই সহজ রুটে মেলে ক্রোমার ক্র্যাব ও ব্রানক্যাস্টার অয়স্টারের মতো স্থানীয় খাবারের স্বাদ।