ঈদের ছুটি শেষ হতেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কমতে শুরু করেছে ভিড়। তবে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণ হারায়নি সিলেটের জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের অন্যান্য স্পট। মার্চের শেষ দিনে এসে গরমের আভাস থাকলেও পাহাড়-নদী-সবুজের মেলবন্ধন এখনো টানছে ভ্রমণপিপাসুদের।
সিলেট মানেই সবুজে ঘেরা এক অনন্য ভূখণ্ড। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের জাফলং অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকের ঢল নামলেও এখন তুলনামূলক স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে যারা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য সময়টা উপযোগী।
জাফলংয়ের প্রধান আকর্ষণ তার স্বচ্ছ পানির নদী ও বিস্তীর্ণ নুড়ি-পাথরের প্রান্তর। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টিকে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো ধরা হলেও মার্চের শেষ ভাগেও এখানকার সৌন্দর্য কমে না। বরং কম ভিড়ের কারণে নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতি উপভোগ করা যায়।
সারিবদ্ধ চা-বাগান, উঁচু-নিচু টিলা, পাহাড়ি ঝরনা আর সবুজ অরণ্যের মিলনে সিলেটের প্রতিটি পর্যটন স্পট যেন একেকটি জীবন্ত ক্যানভাস। স্বচ্ছ পানির বুকে ছড়িয়ে থাকা পাথর আর দূরের মেঘে ঢাকা পাহাড়চূড়া ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে স্বস্তির খোঁজে অনেকে এখনও ছুটে যাচ্ছেন জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে।
সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের ওপারেই ভারতের ডাউকি। সেখান থেকে নেমে আসা নদী বাংলাদেশের পিয়াইন নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তৈরি করেছে অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। এই নদীকেন্দ্রিক ভূপ্রকৃতিই জাফলংকে দিয়েছে স্বাতন্ত্র্য।
জাফলং ভ্রমণে গেলে নৌকায় ঘুরে দেখা যায় খাসিয়াপল্লি ও আশপাশের চা-বাগান। পাশাপাশি কাছাকাছি লালাখাল, ডিবির হাওর, পান্তুমাই ঝরনা ও রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ঘুরে দেখা যায় সহজেই। প্রতিটি জায়গাই নিজস্ব সৌন্দর্যে ভরপুর।
যাতায়াতের জন্য প্রথমে সিলেট শহরে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে কদমতলী বা সোবহানীঘাট এলাকা থেকে বাস, সিএনজি কিংবা মাইক্রোবাসে সহজেই যাওয়া যায় জাফলং। ভাড়া তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
থাকার জন্য সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া জাফলং এলাকাতেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু রিসোর্ট ও আবাসন সুবিধা। খাবার ও যাতায়াত ব্যবস্থাও পর্যটকদের জন্য সহজলভ্য।