রাজশাহী শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া পদ্মার তীরে গড়ে ওঠা আই বাঁধ এখন শুধু একটি সুরক্ষা অবকাঠামো নয়, বরং নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্র। নান্দনিক নকশা, খোলা আকাশ আর নদীর শান্ত সৌন্দর্য মিলিয়ে প্রতিদিন বিকেলে এখানে ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের।
শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত এই বাঁধটি ইংরেজি বর্ণ ‘I’-এর মতো আকৃতির হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে ‘আই বাঁধ’ নামে। মূলত নদীভাঙন রোধ ও শহর রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
পদ্মা নদীর বুকের ওপর প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ পাথুরে এই পথ ধরে হাঁটলে মনে হয় যেন নদীকে চিরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। সূর্যাস্তের সময় আকাশের রঙ বদলের সঙ্গে নদীর ঢেউয়ের মেলবন্ধন তৈরি করে অনন্য দৃশ্য। শরতে কাশফুলে ঘেরা পরিবেশ, আর বর্ষায় পূর্ণ নদীর প্রাবল্য আই বাঁধকে প্রতিটি ঋতুতেই নতুন রূপ দেয়।
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বিকেল কাটাতে এটি রাজশাহীর অন্যতম পছন্দের জায়গা। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।
যাতায়াত
ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে সড়ক, রেল ও আকাশপথ রয়েছে। গাবতলী, কল্যাণপুর বা আব্দুল্লাহপুর থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাসে সরাসরি যাওয়া যায়। ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে।
রেলপথে যেতে চাইলে কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় রাজশাহী পৌঁছানো যায়। আসনভেদে ভাড়া ৪৫০ থেকে ১,৫৯৭ টাকা।
রাজশাহী শহরে পৌঁছে রেল স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে অটো-রিকশা বা ইজি বাইকে করে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় সহজেই আই বাঁধ এলাকায় যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
রাজশাহী শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। নদীর কাছাকাছি থাকতে চাইলে গ্র্যান্ড রিভার ভিউ হোটেল বা হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল বেছে নেওয়া যায়।
এছাড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন পর্যটন মোটেল, হোটেল হ্যালো রাজশাহী, শাহ মখদুম বোর্ডিং কিংবা সাহেব বাজার এলাকার হোটেলগুলো মাঝারি বাজেটের জন্য উপযোগী। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে আই বাঁধে যাতায়াত সহজ।
কোথায় খাবেন
আই বাঁধ এলাকায় বিকেলে স্ট্রিট ফুডের দোকান জমজমাট থাকে। ফুচকা, ঝালমুড়ি সহজেই পাওয়া যায়। তবে মূল খাবারের জন্য সিঅ্যান্ডবি মোড় বা কোর্ট স্টেশন এলাকায় যেতে পারেন।
রাজশাহীর জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে কালাই রুটি, বেগুন ভর্তা ও হাঁসের মাংস উল্লেখযোগ্য। ভালো মানের খাবারের জন্য মাস্টার শেফ রোস্ট, চিলিস ও নানকিং রেস্তোরাঁ পরিচিত।