ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হলেও পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এখনো কমেনি পর্যটকদের ঢল। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে টান অনুভব করে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দেশজুড়ে ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের অব্যাহত উপস্থিতিতে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখনো উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ঈদের দিন থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন স্পটে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম শুরু হয়। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও সেই চাপ কমেনি। বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় অব্যাহত রয়েছে।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়িয়ে পর্যটকরা উপভোগ করছেন কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য। ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে অনেকেই ঘুরে দেখছেন আশপাশের দর্শনীয় স্থান। সম্প্রতি যুক্ত হওয়া সানরাইজ ইকোপার্কও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

এছাড়া আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, পলওয়েল পার্ক, লেকভিউ গার্ডেন, ডিসি বাংলো পার্ক, শিশু পার্ক ও চাংপাং এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে আসামবস্তি থেকে কাপ্তাই বড়াদম সড়কটি এখন ভ্রমণকারীদের অন্যতম আকর্ষণ। এক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্য পাশে বিস্তীর্ণ হ্রদের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।

রাঙামাটির পাশাপাশি সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। পাহাড় ও মেঘের মিলনে গড়ে ওঠা এই পর্যটনকেন্দ্রে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

জেলায় বর্তমানে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট, সাজেকে শতাধিক কটেজ এবং কাপ্তাই এলাকায় আরও কয়েকটি আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের থাকার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারের ঈদ মৌসুমে প্রায় ২০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আরিফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং খরচও সহনীয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিনি সন্তুষ্ট। চট্টগ্রাম থেকে আসা এস এম বেলাল চৌধুরী বলেন, পরিবার নিয়ে ভ্রমণে এসে তিনি ঝুলন্ত সেতু ও হ্রদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।

পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ঈদের আগেই অধিকাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে যায় এবং এখনো প্রায় সব কক্ষ পূর্ণ রয়েছে। কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, ঈদের দিন থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।

নৌযান ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি নৌকা ভাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে সাজেকের কটেজ মালিকদের মতে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব স্পটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং কাপ্তাই হ্রদে নৌটহল জোরদার করা হয়েছে।