ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্বল্প সময়ে বৈচিত্র্যময় ভ্রমণের জন্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা। সুন্দরবনের সবুজ বিস্তৃতি, নদীর শান্ত সৌন্দর্য, প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে এক অনন্য গন্তব্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
জেলার প্রধান আকর্ষণ বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম পছন্দের স্থান। সড়ক ও নদীপথ মিলিয়ে এখানে পৌঁছাতে হয়। ওয়াচ টাওয়ার, কাঠের ট্রেইল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়। দলবদ্ধভাবে গেলে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক।
একই অঞ্চলে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। নদীর তীরে গড়ে ওঠা এ কেন্দ্রে রয়েছে গেস্ট হাউস, ফিশ মিউজিয়াম ও মনোরম দৃশ্য উপভোগের সুযোগ। পাশাপাশি শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য।
সীমান্তঘেঁষা ইছামতি নদীর তীরে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র এখন বেশ জনপ্রিয়। সবুজ প্রকৃতি, নদীর পাড় এবং নৌভ্রমণের সুযোগ এখানে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। কাছেই রয়েছে প্রাচীন বটগাছ ও জমিদার বাড়ি, যা ভ্রমণে যোগ করে ইতিহাসের ছোঁয়া।
কালীগঞ্জের নলতা শরীফ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সুফি সাধক খান বাহাদুর আহছানউল্লার স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটি দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। অন্যদিকে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে ইতিহাসপ্রেমীদের টানে।
শহরের কাছাকাছি বিনোদনের জন্য রয়েছে মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্ট, যেখানে লেক, প্যাডেল বোট ও পিকনিক সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া বাঁকাল ডিসি ইকো পার্ক স্বল্প সময়ে পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য শান্ত পরিবেশ দেয়। লেক ভিউ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট আধুনিক বিনোদন ও খাবারের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ করে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ঈদকে সামনে রেখে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।