ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির কাছে ফেরার টানে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখন পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম। পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরজীবনের কোলাহল ছেড়ে নির্মল পরিবেশে সময় কাটাতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে এই বনভূমিতে। বাড়তি ভিড় সামাল দিতে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একযোগে কাজ করছে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগেই পর্যটকের চাপ বাড়তে শুরু করে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও ঈদের ছুটিতে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা ও কচিখালীসহ প্রধান স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। নদী শান্ত থাকায় ছোট-বড় লঞ্চ ও ট্রলারে করে বনের গভীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। প্রায় ৩৫০ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৫০ প্রজাতির পাখি, আর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণের বিচরণ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য কাছ থেকে দেখার সুযোগই ঈদে পর্যটকদের টানছে বেশি।
খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্যুর অপারেটর, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বনভ্রমণের নির্ধারিত নীতিমালা মানতে কঠোর নজরদারি চলছে।
বন্যপ্রাণী ও বনসম্পদ সুরক্ষায় চারটি রেঞ্জে দায়িত্বরত প্রায় ৭৫০ বনরক্ষীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগ বলছে, সার্বক্ষণিক টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিকারি বা কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে পরিবেশের ক্ষতি ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, দায়িত্বশীল আচরণ না হলে সুন্দরবনের নাজুক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এজন্য পর্যটক নিয়ন্ত্রণ, শব্দ ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, দূষণমুক্ত রাখতে ট্যুর অপারেটরদেরও কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পর্যটন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতনতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অমূল্য বনভূমি রক্ষা সম্ভব।