ঈদের ছুটিতে ব্যস্ততা থেকে একটু মুক্তি পেতে চাইলে সীমান্তঘেঁষা জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য। প্রাচীন সুলতানি স্থাপত্য, বিস্তীর্ণ আমবাগান, সীমান্তের ভিন্ন আবহ আর ইতিহাসঘেরা জনপদ মিলিয়ে এখানে একদিন থেকে কয়েকদিনের ভ্রমণেই পাওয়া যায় বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

ভ্রমণের তালিকার শুরুর দিকেই থাকবে ছোট সোনা মসজিদ। শিবগঞ্জ উপজেলার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। কালো পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজে নির্মিত মসজিদটি সুলতানি আমলের অন্যতম নিদর্শন। প্রবেশে কোনো ফি নেই এবং সারাদিনই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

মসজিদ থেকে অল্প হাঁটার দূরত্বে রয়েছে তোহাখানা কমপ্লেক্স। শাহ সুজার আমলের এই স্থাপনায় রয়েছে দ্বিতল প্রাসাদ, মাজার ও দিঘি। শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি আদর্শ জায়গা।

এলাকার কাছেই সোনামসজিদ স্থলবন্দর। এখানে প্রতিদিনই সীমান্ত বাণিজ্যের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। সামান্য এগোলেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট। অনুমতি নিয়ে সীমান্তরেখা কাছ থেকে দেখার সুযোগ ভ্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

ফেরার পথে দেখা যেতে পারে কানসাট জমিদার বাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে কুঁজো রাজার বাড়ি নামে পরিচিত। ১৮৬৭ সালে নির্মিত এই ভবনের কারুকাজ এখনো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। পাশেই রয়েছে বিখ্যাত কানসাট আমবাজার। মৌসুমে এখানে হাজারো আমের ঝুড়ি আর ট্রাকের সারি এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুঁজলে যেতে পারেন বাবুডাইং এলাকায়। লাল মাটির টিলা আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এখানে আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরের স্মৃতিও এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

নাচোল উপজেলার টিকইল গ্রাম, যা আলপনা গ্রাম নামে পরিচিত, গ্রামীণ শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ঘরের দেয়ালে আঁকা আলপনা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কাছেই রয়েছে ইলামিত্র সংগ্রহশালা, যেখানে তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত।

বিকেলে মহানন্দা নদীর তীরে মহানন্দা পার্ক কিংবা শহরের শিশু পার্কে সময় কাটানো যায়। পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য এগুলো উপযুক্ত স্থান।

থাকার জন্য জেলা শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। বাজেট অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যায়। নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে আমবাগানঘেরা রিসোর্ট বা সরকারি পর্যটন মোটেল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

যাতায়াতে সিএনজি, অটোরিকশা বা বাস সহজলভ্য। সোনামসজিদ বা শিবগঞ্জ এলাকায় যেতে সময় লাগে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। দলবদ্ধভাবে গেলে যানবাহন রিজার্ভ করাই সুবিধাজনক।

ঈদের ছুটিতে স্বল্প সময়ে ইতিহাস, প্রকৃতি আর সীমান্তজীবনের স্বাদ পেতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।