পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে শেরপুরের উত্তর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় অঞ্চল। জেলার তিনটি উপজেলার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এই পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, রং ও সংস্কারকাজ শেষ করে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। ঈদের ছুটি শুরু হলে আবারও পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেরপুরের গারো পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। সবুজ বনভূমি, পাহাড়ি টিলা এবং নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতি বছর শীতকাল, ঈদ ও সরকারি ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন।

এই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে গজনী অবকাশকেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক। এ ছাড়া পানিহাটা ও রাজার পাহাড় এলাকাও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব এলাকায় ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পান।

ঈদকে সামনে রেখে গজনী অবকাশকেন্দ্রসহ আশপাশের বিনোদন স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধোয়া মোছা, রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড ও অবকাঠামোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গজনী বোটক্লাবের ইজারাদার এরশাদ হোসেন বলেন, শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা ভালো ছিল। তবে রমজান মাসে মানুষ সাধারণত ঘোরাঘুরি কম করায় গত এক মাস দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। এতে কিছুটা ব্যবসায়িক ঘাটতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের ছুটিতে আবারও পর্যটকের চাপ বাড়বে।

গজনী অবকাশ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাই ব্যবসায়ীরা নতুন মালামাল আনছেন এবং বিনোদন সুবিধাগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে তুলছেন।

গজনী অবকাশকেন্দ্রে ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত সেতু, রোপওয়ে, জিপলাইন, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট ও সাম্পান নৌকার মতো নানা বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়ায়। এখানকার ওয়াচ টাওয়ারে উঠে সীমান্তবর্তী পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

অন্যদিকে মধুটিলা ইকোপার্কেও রয়েছে স্টার ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, ঝরনা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক। সুউচ্চ টিলায় ওঠার জন্য নির্মিত দীর্ঘ সিঁড়ি পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। টিলার চূড়ায় উঠে চারপাশের সবুজ পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

শেরপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন, দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে বরাবরের মতোই গারো পাহাড় অঞ্চলে পর্যটকের বড় সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।