ঈদের ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান? দূরের পাহাড় বা সমুদ্র নয়, ঢাকার কাছেই মুন্সিগঞ্জে পদ্মা নদীর বুকে ভাসমান হাউসবোট হতে পারে ভিন্ন স্বাদের এক দিনের ভ্রমণ। নদীর ঢেউ, বিস্তীর্ণ আকাশ, নতুন জেগে ওঠা চর আর পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এটি এখন অনেকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঢাকার অদূরে পদ্মা নদীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাউসবোট ভ্রমণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকটি নৌযান থাকলেও এখন প্রায় ২৫টির মতো হাউসবোট এই সেবায় যুক্ত হয়েছে।

এসব হাউসবোট মূলত মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁও, শিমুলিয়া ঘাট অর্থাৎ পুরোনো মাওয়া ঘাট এবং দোহারের নারিশা বাজার ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীরা যে ঘাট থেকে ওঠেন, দিনের শেষে আবার সেখানেই নামিয়ে দেওয়া হয়।

মৌসুম বদলালে গন্তব্যও বদলায়

বাংলাদেশে হাউসবোট পর্যটনের ধারণা নতুন নয়। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে কয়েক বছর ধরেই বিলাসবহুল হাউসবোট ভ্রমণ জনপ্রিয়। তবে হাওর অঞ্চলে মূল পর্যটন মৌসুম থাকে বর্ষাকালে।

জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে। এরপর পানি কমতে শুরু করলে অনেক হাউসবোট স্থান পরিবর্তন করে পদ্মা নদীতে চলে আসে।

শীত থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পদ্মা তুলনামূলক শান্ত থাকে। নদীর বুকজুড়ে কোথাও কোথাও পলি জমে নতুন চর জেগে ওঠে। এসব চরে পাখির আনাগোনাও দেখা যায়। এই সময়টাকেই পদ্মায় হাউসবোট ভ্রমণের উপযুক্ত মৌসুম ধরা হয়।

দিনভর আনন্দ আর নদীর অভিজ্ঞতা

সাধারণত হাউসবোট ভ্রমণের দিনটি শুরু হয় সকালের নাশতা দিয়ে। এরপর থাকে মধ্যাহ্নভোজ। বিকেলে পরিবেশন করা হয় হালকা নাশতা। অনেক প্যাকেজে সন্ধ্যার দিকে চাহিদা অনুযায়ী বারবিকিউয়ের ব্যবস্থাও থাকে।

ঈদের সময় অনেক উদ্যোক্তা বাড়তি কিছু খাবার যুক্ত করেন। কখনো কখনো গ্রামীণ ঈদের আবহ তৈরি করে সাজানো হয় পুরো হাউসবোট।

পদ্মা নদীতে এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়া। নদীর মাঝখান থেকে বিশাল এই সেতুকে দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

এ ছাড়া পদ্মার ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও অনেকের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

চরে খেলাধুলা আর গ্রামীণ আয়োজন

ভ্রমণের সময় অনেক হাউসবোট পদ্মার বিভিন্ন চরে নোঙর করে। তখন পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়।

চরে নামিয়ে দেওয়া হয় ডাইনিং টেবিল। সেখানেই খাওয়া দাওয়া চলে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ নানা খেলাধুলার।

কখনো হাঁড়ি ভাঙা, বালিশ নিক্ষেপ, দৌড় প্রতিযোগিতার মতো গ্রামীণ খেলাও রাখা হয়। পরিবার বা বন্ধুদের দল থাকলে এসব আয়োজন বেশ জমে ওঠে।

নদীর সঙ্গে সরাসরি পরিচয়

পদ্মায় ভ্রমণের সময় অনেক পর্যটক নদীতে নেমে গোসল বা সাঁতারও উপভোগ করেন। কেউ কেউ নদীর পানিতে লাফিয়ে পড়ে আনন্দ করেন।

নৌপথে চলার সময় মাঝেমধ্যে দেখা যায় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য। কাছ থেকে নদী ও নদীর মানুষের জীবন দেখার সুযোগও তৈরি হয়।

খরচ কত

হাউসবোটে দিনভর পদ্মা ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যেই।

সাধারণত জনপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সুবিধা অনুযায়ী ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্যাকেজের দাম নির্ভর করে কেবিনের ধরন, কেবিনে কতজন থাকবেন, অ্যাটাচ বাথরুম আছে কি না, কেবিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কি না এবং অতিরিক্ত সুবিধা যেমন ব্যক্তিগত ব্যালকনি বা সুইমিংপুল আছে কি না তার ওপর।

পরিবার বা করপোরেট দলের জন্য বিশেষ আয়োজনও করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থাও উদ্যোক্তারা করে দেন, তবে সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়।

বুকিংয়ের আগে যা জানা দরকার

বুকিং করার আগে সংশ্লিষ্ট হাউসবোটের ফেসবুক পেজে আগের ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও দেখে নেওয়া ভালো। পর্যটকদের রিভিউ দেখলেও ধারণা পাওয়া যায়।

প্যাকেজে কী কী সুবিধা রয়েছে তা পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত। শিশুদের জন্য আলাদা নীতিমালা থাকলে সেটিও আগে থেকে জানা দরকার।

লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়াও জরুরি।

নিজস্ব গাড়িতে গেলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে কি না, সেটিও আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

পদ্মায় চলাচল করা কয়েকটি হাউসবোট

গ্রিন হ্যাভেন
মোবাইল ০১৭১৯৫৯১৬১৩
ফেসবুক fb.com/greenhaven0

ওয়াটার ইন
মোবাইল ০১৮৯৪৪৪২৪২৬
ফেসবুক tinyurl.com/yfkjujx4

দ্য হাওর সেইল
মোবাইল ০১৭১৩৩৮৮৪৯২
ফেসবুক fb.com/Thehaorsail

দহিম
মোবাইল ০১৬৭৪৯৪৮৬৬৮
ফেসবুক fb.com/doheem

ফ্যালকন
মোবাইল ০১৮৯৭৯৮৪০০৮
ফেসবুক fb.com/falconhouseboat

হৈমন্তী
মোবাইল ০১৭৯৮২৫৪৬২১
ফেসবুক tinyurl.com/2txbt7jy

কাগজের নৌকা
মোবাইল ০১৮২৩৮০০৮০৪
ফেসবুক fb.com/kagojernoukaboat